‘দাবাং তৃণমূল দরকার’, মমতার সঙ্গ ছেড়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র! ইস্তফা দিলেন কোয়েলও – এবেলা

‘দাবাং তৃণমূল দরকার’, মমতার সঙ্গ ছেড়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র! ইস্তফা দিলেন কোয়েলও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং দলের অন্দরে তৈরি হওয়া নব-তৃণমূল বনাম আদি-তৃণমূল দ্বন্দ্বের মাঝেই বড় ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাপটের মাঝেও যিনি মমতার পাশে ছিলেন, সেই দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী ‘স্নেহের’ মদন মিত্রও এবার সঙ্গ ছাড়লেন। একইসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও। একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগে জোড়া ধাক্কায় রীতিমতো কোণঠাসা কালীঘাট।

মদনের নিশানায় কালীঘাট

মমতার সঙ্গ ছাড়ার পাশাপাশি দলের বর্তমান কার্যপ্রণালী নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মদন মিত্র। তিনি স্পষ্ট জানান:

  • ‘দাবাং তৃণমূল’ প্রয়োজন: মদন মিত্রের কথায়, “কালীঘাট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে আর যাই হোক আগ্রাসী বিজেপির সঙ্গে লড়াই করা যাবে না। আমাদের একটা দাবাং তৃণমূল কংগ্রেস দরকার।”
  • দিশাহীন নেতৃত্ব: দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ছ’টায় কী হবে, পৌনে ছ’টায় কালীঘাট তা জানে না! আমরা সঠিক পথের সন্ধান দিচ্ছি।”

২১ জুলাইয়ের স্থান ও এজেন্সি প্রসঙ্গ

  • গান্ধী মূর্তির পাদদেশই টার্গেট: আসন্ন একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে মদন মিত্র জানান, দলের সমস্ত কর্মীর ‘ওয়ান পয়েন্ট টার্গেট’ হওয়া উচিত গান্ধী মূর্তির সামনে জড়ো হওয়া। তাঁর মতে, ২১ জুলাইয়ের গুলি চালনার দিন তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন, তাই গান্ধী মূর্তির পাদদেশই হল শহিদ দিবসের আসল জায়গা।
  • এজেন্সির তলবে ভয় নেই: স্ত্রী-পুত্রকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব প্রসঙ্গে মদন নির্ভীক। তিনি জানান, এজেন্সি ডাকলে তাঁরা যাবেন। সত্যি কোনও অন্যায় করে থাকলে সেটা তদন্তকারীরাই দেখবেন।

তৃণমূল ছাড়লেন সাংসদ কোয়েল মল্লিক

মদনের দল ছাড়ার খবরের মাঝেই তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ রুক্মিণী মল্লিক ওরফে কোয়েল মল্লিক।

  • রথের দিনেই আচমকা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।
  • উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণের হাতে সশরীরে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন এই অভিনেত্রী।
  • কোয়েলের ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা এক ধাক্কায় ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল ৯-এ।

এই প্রসঙ্গে মদন মিত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “কোয়েল কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারে।” সব মিলিয়ে একুশে জুলাইয়ের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলকে ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *