দার্জিলিং চায়ের গৌরব ফেরাতে এবার আসাম মডেল, মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে উত্তরের চা বণিকসভা – এবেলা

দার্জিলিং চায়ের গৌরব ফেরাতে এবার অসম মডেল, মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে উত্তরের চা বণিকসভা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরের রুগ্নপ্রায় চা শিল্পে প্রাণ ফেরাতে এবার প্রতিবেশী রাজ্য আসামের উন্নয়ন মডেলকে হাতিয়ার করতে চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের চা ব্যবসায়ীরা। উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের দীর্ঘদিনের সঙ্কট মোচনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে চলেছেন নর্থবেঙ্গল টি প্রডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। আগামী জুন মাসে এই যৌথ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। চা বণিকসভাগুলোর মতে, বিগত রাজ্য সরকারের নীতিগত ভুল এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো আটকে রাখার ফলে এই অঞ্চলের চা শিল্প গভীর সঙ্কটে পড়েছে। বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ৩১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার আবহে আসামের মতো যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সুদিন ফেরার আশা করছেন অংশীজনরা।

সঙ্কটের মূলে নীতিগত ব্যর্থতা ও আবহাওয়া বদল

উত্তরের চা চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের ‘চা সুন্দরী’র মতো প্রকল্পগুলো মাঠপর্যায়ে সফল হয়নি। উলটে শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান নিয়ে অসন্তোষ বেড়েছে। ন্যূনতম মজুরি কিংবা কাঁচা পাতার সঠিক দাম নির্ধারণের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোও আড়ালে চলে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বিপর্যয় দার্জিলিংয়ের বিশ্বখ্যাত চায়ের উৎপাদনকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। গত দুই দশকে পাহাড়ে বৃষ্টিপাত কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকে উৎপাদন কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। বর্তমানে পাহাড়ের ৮৭টি জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত বাগানের মধ্যে অন্তত ১৫টি পুরোপুরি বন্ধ। বাকি বাগানগুলোর সিংহভাগ গাছ অত্যন্ত পুরনো হওয়ায় উৎপাদনশীলতা হারিয়েছে। অব্যাহত লোকসানের জেরে অন্তত ২৫টি বাগানের মালিক এখন লগ্নিকারী বা ক্রেতা খুঁজছেন।

উন্নয়নে দিশা দেখাতে পারে প্রতিবেশী রাজ্য

এই অচলাবস্থা কাটাতে আসামের সফল মডেলকে এ রাজ্যেও কার্যকর করার দাবি জোরালো হচ্ছে। আসামে চা শ্রমিকরা দৈনিক ২৮০ টাকা মজুরির পাশাপাশি রেশন এবং কেন্দ্রীয় যোজনার আওতাধীন চিকিৎসা, আবাসন ও শিক্ষার উন্নত সুবিধা পাচ্ছেন। সেখানে কোনো বাগান বন্ধ হলে রাজ্য সরকার তা অধিগ্রহণ করে নেয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সমন্বয়ে সেখানে চা বলয়ের স্কুলগুলোতে স্মার্ট ক্লাস ও একাধিক বাগান মিলে বড় হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই ধাঁচে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দার্জিলিং চায়ের সুখ্যাতি রক্ষায় একটি আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত উচ্চ ফলনশীল চারা রোপণ, রাসায়নিক মুক্ত পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদন এবং চা পর্যটনের বিকাশ ঘটানো গেলে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *