দিল্লিতে ফিরছে করোনা আতঙ্ক, ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা!

দিল্লিতে ফিরছে করোনা আতঙ্ক, ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা!

দিল্লি এনসিআর-এ ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনার উপসর্গ, বাড়ছে উদ্বেগ

করোনাকালের স্মৃতি ফিরিয়ে আবারও দিল্লির জনজীবনে হানা দিল ভাইরাসের সংক্রমণ। রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী শহরগুলিতে জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই উদ্বেগের ছবি উঠে এসেছে, যা নতুন করে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সমীক্ষায় উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র

‘লোকাল সার্কেল’-এর সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দিল্লি এনসিআর অঞ্চলের অন্তত ৫০ শতাংশ পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য বর্তমানে করোনার মতো উপসর্গে ভুগছেন। দিল্লি, গুরুগ্রাম, নয়ডা, ফরিদাবাদ এবং গাজিয়াবাদের মোট ১৬,২০০টি পরিবারকে এই সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তথ্য বলছে:

  • ২২ শতাংশ পরিবারে অন্তত চারজন সদস্য অসুস্থ।
  • ১২ শতাংশ পরিবারে দু’জন আক্রান্ত।
  • ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্তত একজন সদস্য অসুস্থতায় ভুগছেন।

উপসর্গ ও শারীরিক প্রভাব

আক্রান্তদের শরীরে মূলত জ্বর বা সর্দিকাশির পাশাপাশি গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, তীব্র মাথাব্যথা এবং গায়ে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে পেশিতে টান এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা বা পেটের গোলমালও দেখা দিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, জ্বর কমে গেলেও শারীরিক দুর্বলতা কাটতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাচ্ছে, যা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করে।

ঋতু পরিবর্তন নাকি করোনার নতুন ঢেউ?

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিবার আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ই সর্দি-জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। অনেক রোগীই শিশুদের বা বয়স্ক সদস্যের থেকে সংক্রমিত হচ্ছেন, যার ফলে পুরো পরিবার একসঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মত, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জাতে ভুগছেন। তবে যথাযথ পরীক্ষা করালে অনেকের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের অধিকাংশই মৃদু উপসর্গে ভুগছেন, তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে বাড়িতে থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলায় চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরমর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘনঘন হাত স্যানিটাইজ করা এবং পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে মাস্ক ব্যবহার করে সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

এক ঝলকে

  • দিল্লি এনসিআর-এর ৫০ শতাংশ পরিবারে করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
  • ১৬,২০০টি পরিবারের উপর পরিচালিত সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এই চিত্র।
  • জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা এবং প্রবল দুর্বলতা প্রধান উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত।
  • ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে ভাইরাল সংক্রমণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
  • আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *