দেশ কি এবার বাম-শূন্য? কেরলে হারের ইঙ্গিত পেতেই বড় সংকটে লাল ঝান্ডা!

দেশ কি এবার বাম-শূন্য? কেরলে হারের ইঙ্গিত পেতেই বড় সংকটে লাল ঝান্ডা!

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের অবস্থান এখন খাদের কিনারায়। এক সময়ের দাপুটে রাজনৈতিক শক্তি আজ অস্তিত্ব রক্ষার চরম সংকটে। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৬ সালের সেই স্বর্ণযুগ, যখন পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরলে একযোগে বাম শাসন ছিল, তা আজ ফিকে স্মৃতি মাত্র। ২০০৪ সালের লোকসভায় ৬০টি আসন জেতা বামফ্রন্ট বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত কোণঠাসা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা যদি সত্য হয়, তবে ভারতের শেষ বাম দুর্গ কেরলও হাতছাড়া হতে পারে তাদের।

অস্তিত্বের সংকটে শেষ দুর্গ

কেরলকে বলা হয় ভারতীয় বামপন্থীদের ‘শিবরাত্রির সলতে’। ১৯৫৭ সালে ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বে এই রাজ্যেই বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারের ১০ বছরের শাসনের অবসান হতে পারে। যদি ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফল এগজিট পোলের পথ অনুসরণ করে, তবে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ভারত সম্পূর্ণ ‘বাম শূন্য’ রাজ্য শাসনের মুখে পড়বে। মূলত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থানই এই পতনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

পতন ও প্রাসঙ্গিকতার লড়াই

বামেদের এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ। দীর্ঘস্থায়ী শাসনকাল থেকে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা যেমন পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় তাদের ধস নামিয়েছে, তেমনি পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির দাপট ও বিজেপির প্রবল বিস্তারের সামনে তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতা এবং মতাদর্শগত অনমনীয়তা তাদের অভিযোজন ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে নির্বাচনী শক্তিক্ষয় হলেও ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক আন্দোলন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে রাজপথে এখনও বামেদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।

এক ঝলকে

  • ১৯৮৭-৯৬ সালে বাংলা, ত্রিপুরা ও কেরলে একযোগে ক্ষমতায় ছিল বামেরা।
  • ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামপন্থীরা সর্বোচ্চ ৬০টি আসন জিতেছিল।
  • ২০২৬-এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী কেরলেও ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে এলডিএফ।
  • বর্তমানে ভারতের মূলধারার রাজনীতিতে বামেদের টিকে থাকার লড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *