নিহত কর্মীর ঘরে অবরুদ্ধ অভিষেক, সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলার মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক – এবেলা

নিহত কর্মীর ঘরে অবরুদ্ধ অভিষেক, সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলার মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারানো দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোনারপুরের কামরাবাদে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়। বিক্ষোভকারীদের এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষিতে বিধ্বস্ত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ শেষ পর্যন্ত মাথা বাঁচাতে ক্রিকেট হেলমেট পরে হেঁটে নিহত কর্মীর ঘরে পৌঁছান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্ষুব্ধ জনতার ঘেরাটোপে ওই বাড়ির ভেতরেই অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন তৃণমূল নেতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা সোনারপুর থানার আইসি-কে জরুরি ফোন করেছেন।

হামলার তীব্রতা ও চরম বিশৃঙ্খলা

শনিবার কলকাতার বেলেঘাটা হয়ে সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝপথে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সিআইডি-র একটি নোটিসও গ্রহণ করেন তিনি। তবে সোনারপুরে ঢোকার আগে পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কালো পতাকা হাতে জমায়েত করেছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের পাশাপাশি বিক্ষোভকারী মহিলাদের হাতে ডিম ও জুতো দেখা যায়। তীব্র বিক্ষোভের জেরে চারচাকা গাড়ি ছেড়ে অভিষেক একটি মোটরবাইকে চড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গতিপথ আটকে সরাসরি শারীরিক হেনস্থা শুরু করে। হামলায় তৃণমূল নেতার চোখের চশমা ভেঙে যায় এবং পরনের সাদা শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয়। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসে ‘চোর-চোর’ স্লোগান। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই একটি ক্রিকেট হেলমেট পরে মাথা বাঁচিয়ে কোনোমতে নিহত কর্মীর বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি।

প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক সংঘাত

নিহত কর্মীর বিধ্বস্ত বাবা-মায়ের পাশে বসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য রাজ্যের বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ ছিল না এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এই হিংসার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নিজেকে লক্ষ্য করে হওয়া ‘চোর’ স্লোগানের পাল্টায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ক্যামেরার সামনে টাকা নেওয়া দু’কান কাটা লোক এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। হামলার জেরে মাথা বাঁচলেও, তাঁর প্রস্থানের পর নিহত কর্মীর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। এই পরিস্থিতিতে হামলাকারীরা বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে দাবি করে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনাই এই নজিরবিহীন সংঘাতের মূল কারণ। ঘটনার জেরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। ডবল ইঞ্জিন সরকারের পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলছে, তা আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক স্তরে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে, এই ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *