পঁচিশে বৈশাখে নয়া অধ্যায়, রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ

পঁচিশে বৈশাখে নয়া অধ্যায়, রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ

বাংলার মসনদে পালাবদলের পর এবার নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর আগামী ৯ মে, অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে চলেছেন। মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বাঙালির আবেগ ও কবিগুরুর আদর্শকে পাথেয় করেই এই বিশেষ দিনটিকে শপথগ্রহণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে মোদী-শাহের উপস্থিতি

বাংলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের একাধিক শীর্ষ নেতার কলকাতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী বারবার পঁচিশে বৈশাখের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। এই মেগা অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কারা

নির্বাচনী ফলাফলে দুইশোর বেশি আসন পাওয়ায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? দলীয় সূত্রে একাধিক নাম নিয়ে জল্পনা চললেও নির্দিষ্ট করে কারো নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ এবং নিশীথ প্রামাণিকের নাম। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দেওয়া ‘ভূমিপুত্র’ এবং ‘বাঙালি’ পরিচয়ের মানদণ্ডে কে শেষ পর্যন্ত গদিতে বসেন, তা নিয়েই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

সম্ভাব্য প্রভাব ও পরিবর্তন

রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন নতুন সরকারের এই যাত্রা শুরু রাজ্য রাজনীতিতে এক গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর বার্তা দিতেই এই বিশেষ দিনটি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো নতুন মন্ত্রিসভার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *