“মানুষের রায় মাথা পেতে নিলাম, হয়তো কোথাও ভুল ছিল!” করিমপুরে হারের পর ভেঙে না পড়ে কী বললেন সোহম?

“মানুষের রায় মাথা পেতে নিলাম, হয়তো কোথাও ভুল ছিল!” করিমপুরে হারের পর ভেঙে না পড়ে কী বললেন সোহম?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র করিমপুরে অভাবনীয় পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে পরাজিত করে এই আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে তৃণমূল বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল, সেখানে মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই পরাজয় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে।

জনতার রায় এবং সোহম চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে সোহম চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, জনগণের রায়কে তিনি সম্মান করেন। তাঁর মতে, হয়তো কোথাও কোনো ভুল রয়ে গিয়েছিল যার প্রতিফলন এই ফলাফলে দেখা গেছে। সোহম বলেন, “মানুষ তাঁদের ভালো বুঝেছেন, তবে কোনটা সত্যিই ভালো আর কোনটা খারাপ, তা সময়ই বলবে।” পরাজয় সত্ত্বেও তিনি আগামী দিনে করিমপুরের মানুষের পাশে থাকার এবং তাঁদের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের নেপথ্যে

২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিমলেন্দু সিংহ রায় প্রায় ২৩,৫৭৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সেবার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ এবার নিজের ভোটব্যাংক অটুট রেখে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা পার করতে সক্ষম হয়েছেন। করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ২,৪১,৩৬২ জন ভোটারের মধ্যে গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই ফলাফলের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের বিরুদ্ধে স্থানীয় কোনো ক্ষোভ বা সাংগঠনিক দুর্বলতাই এই হারের প্রধান কারণ হতে পারে। এছাড়া বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনভিত্তি এবং সমরেন্দ্রনাথ ঘোষের দীর্ঘদিনের জনসংযোগ এই লড়াইয়ে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। করিমপুরের এই পালাবদল জেলার অন্যান্য প্রান্তেও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *