নবান্ন নয়, বাংলা শাসিত হবে রাইটার্স থেকেই! ক্ষমতা দখল করেই বড় চমক বিজেপির, ফিরছে মহাকরণ যুগ

নবান্ন নয়, বাংলা শাসিত হবে রাইটার্স থেকেই! ক্ষমতা দখল করেই বড় চমক বিজেপির, ফিরছে মহাকরণ যুগ

বাংলার মসনদে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এখন রাজ্য শাসনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে এই নতুন সরকারের প্রশাসনিক দর্শনে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য, বর্তমান প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন থেকে নয়, বরং বাংলার চিরাচরিত ক্ষমতার উৎস রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকেই রাজ্য পরিচালনা করা। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নের ১৪ তলা নয়, বরং মহাকরণের দোতলায় বসেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন।

ঐতিহ্যে ফেরা বনাম সংস্কারের চ্যালেঞ্জ

বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, রাইটার্স বিল্ডিং বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রশাসনিক ভরকেন্দ্রকে তার পুরনো ঠিকানায় ফিরিয়ে আনা তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তবে মহাকরণ বর্তমানে সংস্কারাধীন থাকায় কত দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী ও তার দফতর সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবুও প্রতীকীভাবে হলেও রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই নতুন অধ্যায় শুরু করতে বদ্ধপরিকর জয়ী পক্ষ।

পরিবর্তনের নেপথ্যে পুঞ্জীভূত জনরোষ

২০২৬-এর নির্বাচনে এই রাজনৈতিক পালাবদলের পেছনে একাধিক কারণকে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো জনপ্রিয় প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মনে থাকা ক্ষোভকে দমানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতিতে হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হওয়া এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থবিরতা জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সিন্ডিকেট রাজ ও তৃণমূলের নীচুতলার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

আরজি কর কাণ্ডের ছায়া এবারের ভোট মেশিনেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। চিকিৎসকের ওপর নৃশংস হামলা ও পরবর্তী ঘটনাক্রম রাজ্যের নারী শক্তির একাংশের আস্থা সরকার থেকে সরিয়ে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেকারত্ব, শিল্প ও বিনিয়োগের অভাব এবং পুলিশের অতিসক্রিয়তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হতাশা তৈরি করেছিল, তার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বক্সে।

নতুন সরকারের সামনে পাহাড়প্রমাণ প্রত্যাশা

ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক তিন হাজার টাকা প্রদান এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ দ্রুত কার্যকর করা নতুন সরকারের জন্য অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে। গ্রাম ও শহর—উভয় অঞ্চলেই মানুষের এই বিপুল প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপি বাংলায় সুশাসন ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *