পঞ্চাশ হাজার টাকার অ্যাপেল ওয়াচের বদলে এল সস্তা চীনা ঘড়ি, অনলাইন প্রতারণার শিকার অভিনেতা ভীর দাস! – এবেলা

পঞ্চাশ হাজার টাকার অ্যাপেল ওয়াচের বদলে এল সস্তা চীনা ঘড়ি, অনলাইন প্রতারণার শিকার অভিনেতা ভীর দাস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অনলাইন কেনাকাটার পরিধি যত বাড়ছে, ততই নিত্যনতুন রূপ নিচ্ছে জালিয়াতির ফাঁদ। এবার সেই প্রতারণার জালে জড়ালেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী ভীর দাস। কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘জেপটো’ থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের একটি নামী ব্র্যান্ডের ‘অ্যাপেল ওয়াচ’ অর্ডার করে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। একটি শুটিংয়ের প্রয়োজনে চটজলদি অর্ডার করা সেই বহুমূল্যের আসল ঘড়ির বদলে তাঁর হাতে এসেছে একটি সস্তা চীনা নকল ঘড়ি।

গ্রাহক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ ও সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ

অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পর পার্সেল খুলে নকল পণ্য দেখতে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, সরবরাহ করা পণ্যটির মান এতটাই নিম্নমানের যে তা কোনোভাবেই আসল অ্যাপেল ওয়াচের সমকক্ষ নয়। বিষয়টি নিয়ে জেপটোর কাস্টোমার কেয়ারে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে অত্যন্ত নিরাশাজনক উত্তর আসে এবং জানানো হয় যে এই মুহূর্তে তাদের কিছুই করার নেই। এর পরেই বাধ্য হয়ে ভীর দাস ইমেলের স্ক্রিনশট ও পণ্যের ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি জেপটোর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, তাদের কাছে কি অ্যাপেলের সব ঘড়িই এমন চীনা পণ্যের মতো দেখতে হয়?

সংস্থার সাফাই ও ই-কমার্স সুরক্ষায় নতুন সংকট

বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স সংস্থা। জেপটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং ব্র্যান্ড পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সুরক্ষার খাতিরে বহুমূল্যের পণ্যের ক্ষেত্রে পার্সেল খোলার আগে ডেলিভারি এজেন্টকে ওটিপি (OTP) শেয়ার না করার জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এই ধরণের প্রতারণার মূল কারণ হলো দ্রুত পণ্য সরবরাহের তাগিদে কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর অপর্যাপ্ত যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক চেইনে নজরদারির অভাব। এর ফলে মাঝপথে বা প্যাকেজিংয়ের সময় আসল পণ্য বদলে যাওয়ার মতো জালিয়াতি ঘটছে। এই ঘটনার জেরে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি হাইপ্রোফাইল সেলিব্রিটিদের মধ্যেও অনলাইন কেনাকাটা নিয়ে তীব্র অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে ই-কমার্স ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতাকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *