পুজোর আগেই সরকারি কর্মীদের বাম্পার লটারি, এক লাফে ৩৮ শতাংশ মহার্ঘভাতার ঘোষণা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অভূতপূর্ব উপহার দিল প্রশাসন। বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানোর দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সোমবার বিধানসভায় এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। পূর্বতন সরকারের জমানায় যে মহার্ঘভাতা নিয়ে লাগাতার ক্ষোভ ও আইনি লড়াই চলছিল, নতুন সরকারের ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাজেটে তার স্থায়ী সমাধান মিলল। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানের ১৮ শতাংশ ডিএ-র সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ যোগ করে মোট ৩৮ শতাংশ মহার্ঘভাতা দেওয়া হবে সরকারি কর্মীদের।
আন্দোলনের অবসান ও ক্ষোভের উপশম
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সরকার কেন্দ্রের সমতুল হারে ডিএ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, যা কর্মচারী মহলে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই কর্মচারীদের এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভে প্রলেপ পড়ল। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কর্মচারীদের আন্দোলনের এক বড় জয় হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
আর্থিক প্রভাব ও কার্যকরের সময়সীমা
আসন্ন উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই এই বাড়তি আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন কর্মীরা। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে এই নতুন বর্ধিত মহার্ঘভাতা কার্যকর করা হবে। এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের কোষাগারের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে নিশ্চিত, তবে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতিতে। পুজোর মুখে কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসায় বাজারে কেনাকাটা ও চাহিদার জোয়ার আসবে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
