পুরুষ ‘লক্ষ্মী’র পর এবার ২৫ বছরের নিচে তরুণীদেরও টাকা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ঘিরে ধুন্ধুমার চন্দ্রকোণায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে একের পর এক জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মুর্শিদাবাদের রাকিবুল শেখের পর এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় পুরুষ উপভোক্তার পাশাপাশি ২৫ বছরের কম বয়সি তরুণীদের অ্যাকাউন্টেও প্রকল্পের টাকা ঢোকার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছে বলে ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
নিয়ম ভেঙে টাকার খেলা
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য মহিলাদের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছর। অথচ চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ২৫ বছরের কম বয়সি তরুণীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শাসক দলের মদতে একটি বড়সড় চক্র টাকার বিনিময়ে এই বেআইনি কাজ সংগঠিত করেছে। এই জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে ইতিমধ্যেই চন্দ্রকোণা ব্লক প্রশাসনের (বিডিও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল নেতা
এই জালিয়াতি চক্রের জল গড়িয়েছে রাজনৈতিক তরজাতেও। চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকায় উত্তম কুমার সাউ নামে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা ঠিকা কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ওই নেতার নাম উপভোক্তার তালিকায় এল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি, তিনি তাঁর স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলেন এবং কীভাবে স্ত্রীর বদলে তাঁর নিজের নাম তালিকায় যুক্ত হলো, তা তাঁর জানা নেই। এমনকি তাঁর স্ত্রী কোনো টাকা পাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী শিবির এই দাবিতে সন্তুষ্ট নয়; তারা অবিলম্বে জালিয়াতির টাকা ফেরত দেওয়ার এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রভাব ও প্রশাসনিক উদ্বেগ
মুর্শিদাবাদের পর চন্দ্রকোণার এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ডেটাবেস এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় গভীর গলদ রয়েছে। অসাধু চক্র সরকারি পোর্টালের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ভুয়া উপভোক্তা তৈরি করছে, যার ফলে প্রকৃত দুঃস্থ মহিলারা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং সরকারের বিপুল রাজস্বের অপচয় ঘটছে। এই ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্লকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা তালিকা নতুন করে স্ক্রুটিনি বা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
