পৃথিবী যতদিন থাকবে, ‘বন্দে মাতরম’ও থাকবে! বিস্ফোরক মন্তব্য হুমায়ুন কবীরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রায়ই আলোচনায় আসা হুমায়ুন কবীর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবতারে অবতীর্ণ হয়েছেন। একসময় ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির ঘোষণা দিয়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) এই নেতা এখন দেশাত্মবোধক স্লোগান ‘বন্দে মাতরম’ এবং প্রশাসনের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর প্রকাশ্য সমর্থনে সরব হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজস্ব দল গড়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া এই নেতার এমন অবস্থানকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নাটক’ ও তৃণমূলের সমালোচনা
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে কালো কোট পরে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুমায়ুন কবীর এই ঘটনাকে স্রেফ ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ২০২১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর যে নজিরবিহীন হিংসা হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকাতে পারেননি। বর্তমানে বিরোধী শিবিরের চাপের মুখে পড়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াকে তিনি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, আদালতে উপস্থিত হওয়ার সময় আইনজীবীদের একটি বড় অংশ মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বুলডোজার ও জাতীয়তাবাদী স্লোগানে অকুণ্ঠ সমর্থন
জাতীয়তাবাদ ও প্রশাসনিক কঠোরতা নিয়ে কবীরের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। বন্দে মাতরম স্লোগান নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই স্লোগান ভারতে আগেও ছিল এবং পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন থাকবে; এতে কারও কোনো আপত্তি থাকা উচিত নয়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির ধাঁচে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, যেখানেই অবৈধ নির্মাণ হবে কিংবা অপরাধমূলক কাজ চলবে, সেখানে বুলডোজার চালানো হলে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর—এই দুই আসনেই জয়লাভ করেছেন হুমায়ুন কবীর। তবে নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে তিনি রেজিনগর আসনটি থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, তাঁর ছেলেও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কট্টরপন্থী ইমেজ ঝেড়ে ফেলে এই ধরণের নমনীয় ও জাতীয়তাবাদী অবস্থান গ্রহণ করে হুমায়ুন কবীর হয়তো নতুন কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক সমীকরণের পথ প্রশস্ত করছেন। এই পরিবর্তনের প্রভাব আগামী উপ-নির্বাচন এবং সামগ্রিক রাজ্য রাজনীতিতে কতটা পড়বে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
