ফল ঘোষণার আগেই গেরুয়া শিবিরে উৎসব, সদর দফতরে ভিয়েন বসিয়ে লুচি-মিষ্টির ভোজ

ফল ঘোষণার আগেই গেরুয়া শিবিরে উৎসব, সদর দফতরে ভিয়েন বসিয়ে লুচি-মিষ্টির ভোজ

কলকাতা, ৪ মে ২০২৬: এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রচারযুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালা আজ। আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই এক অনন্য আবহাওয়া তৈরি হয়েছে বিজেপির সদর দফতরে। ফলাফলের চূড়ান্ত ট্রেন্ড আসার আগেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির সকাল থেকেই মেতে উঠেছে অকাল উৎসবে।

সকাল থেকেই ভোজের তোড়জোড়

বিজেপির সদর দফতরে আজ সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজ। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মন্তব্যকে কটাক্ষ করে এদিন দফতরে রীতিমতো ভিয়েন বসানো হয়েছে। বিশালাকার কড়াইতে তৈরি হচ্ছে ফুলকো লুচি আর হরেক রকমের মিষ্টি। গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বড় আকারে রান্নার আয়োজন করা হয়েছে কর্মীদের জন্য। বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে কোনো খামতি রাখতে চায় না দল, আর সেই আত্মবিশ্বাসই প্রতিফলিত হচ্ছে এই আগাম বিজয়োৎসবে।

টানটান লড়াই আর রাজনৈতিক সমীকরণ

নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বারবার বঙ্গ সফর বিজেপির লক্ষ্যকে স্পষ্ট করে দিয়েছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাঙালির অস্মিতা এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পকে হাতিয়ার করে কড়া টক্কর দিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে’ ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মহিলা ভোটারদের কতটা আকৃষ্ট করতে পেরেছে, তার ওপর অনেকখানি নির্ভর করছে এই লড়াইয়ের ফলাফল।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাওয়া গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা ‘কাঁটে কা টক্কর’ অব্যাহত। এই ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বাংলার আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ। যদি প্রাথমিক ট্রেন্ড শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, এই লড়াইয়ের ফল রাজ্যের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলবে। আপাতত বাংলার মসনদে কে বসবেন, সেই উত্তর খুঁজতেই নজর এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্যের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *