বন্দে মাতরম বিতর্ক: সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের পথে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র সমান মর্যাদা দেওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর গায়ন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) বৃহস্পতিবার সরকারের এই পদক্ষেপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বোর্ড সাফ জানিয়েছে, সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে তারা বিষয়টিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বন্দে মাতরমের ছয়টি স্তবকই এখন থেকে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদা পাবে। সরকারি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সংগীতের আগে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র।
ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম সরকারি আদেশ
মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মূল চেতনা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বোর্ডের মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ধারণাকে দেশের সমস্ত নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আপত্তির মূল কারণ ও প্রভাব
বোর্ডের আপত্তির মূলে রয়েছে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, ‘তৌহিদ’ বা একত্ববাদে বিশ্বাসীরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর ইবাদত বা উপাসনা করতে পারেন না। বন্দে মাতরম সংগীতের বিভিন্ন স্তবকে দেশমাতৃকাকে দেবী দুর্গা হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে ‘শিরক’ বা আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করার শামিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নতুন করে মেরুকরণের সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের সংঘাত—এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আদালতের রায় এখন এই বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
