বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জমিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কুকুরের ঘর ও জিম, বৈদ্যবাটীতে তীব্র চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হুগলির বৈদ্যবাটী পুরসভা এলাকায় সরকারি জমিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের বদলে জিম এবং কুকুরদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ঘর তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চাঁপদানির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিংহ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের তির চাঁপদানির প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইয়ের দিকে।
বর্জ্যের জমিতে বিলাসিতার আয়োজন
বৈদ্যবাটী পুরসভা এলাকায় আঞ্চলিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য একটি সরকারি জমি অনুমোদিত হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার সকালে বর্তমান বিধায়ক দিলীপ সিংহ ওই নির্দিষ্ট জমিটি পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের পরিকাঠামো তৈরির পরিবর্তে ওই জমিতে একটি আধুনিক জিম এবং জাল দিয়ে ঘেরা কুকুর রাখার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি কুকুরদের রাখার সেই ঘরটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মানুষের মৌলিক চাহিদার তুলনায় অবলা প্রাণীর জন্য এমন বিলাসবহুল ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি জমির এই ভিন্ন ব্যবহার দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বর্তমান বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই জিম এবং কুকুরের ঘরের চাবি এখনও প্রাক্তন বিধায়কের জিম্মায় রয়েছে।
তদন্তের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁপদানির রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিধায়ক দিলীপ সিংহ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকারি সম্পত্তির এই ধরনের অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এই ‘বিলাসিতা’র পেছনে কার হাত রয়েছে তা খুঁজে বের করতে নিশ্চিতভাবে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবেন না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই অভিযোগের ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এবং সরকারি জমির তদারকি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুরসভার দায় এড়ানোর চেষ্টা
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই বৈদ্যবাটী পুরসভার পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান জানান, প্রায় তিন বছর আগে ওই নির্দিষ্ট ইউনিটটি একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সেখানে বর্তমানে কী ধরনের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে বা কী কাজ চলছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার ওই সংস্থার। এই নির্মাণ বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুরসভা কোনোভাবেই যুক্ত নয় বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, সেই প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
