বালিশ কি আসলেই ডেকে আনছে ক্যানসার? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পডকাস্টের ক্লিপকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, শোওয়ার বালিশ বাতাস থেকে ধুলোবালি ও ক্ষতিকর কণা শোষণ করে নেয়, যা বছরের পর বছর ব্যবহারের ফলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র হুলস্থূল পড়ে গেলেও চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ভাইরাল দাবির পেছনের আসল বৈজ্ঞানিক সত্যতা
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বালিশের কারণে ক্যানসার হতে পারে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে একটি বালিশ ব্যবহার করলে তাতে ঘাম, শরীরের তেল, ধুলোবালি জমতে পারে এবং আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক বা ধূলিকণার জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তবে এই ধরনের দূষক বা জীবাণুর সাথে স্কিন ক্যানসার বা অন্য কোনো ক্যানসারের দূর-দূরান্তেও কোনো সম্পর্ক নেই। সামান্য একটি বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে সাধারণ মানুষের মনে অবৈজ্ঞানিক ভয় ছড়ানো হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বালিশের আসল ঝুঁকি ও সুরক্ষার উপায়
বছরের পর বছর একই বালিশ ব্যবহারের আসল ঝুঁকি মূলত ক্যানসার নয়, বরং অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্টের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। নোংরা বালিশে থাকা জীবাণুর কারণে সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে হাঁজল বা অ্যাজমার সমস্যা তীব্র হতে পারে। এ ছাড়া ত্বকে নানা রকমের জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি কিংবা ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ক্যানসারের কোনো ঝুঁকি না থাকলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রতি দুই বছর পর পর বিছানার বালিশ বদলে ফেলা উচিত। একই সাথে নিয়মিত বালিশের কভার ও চাদর ধোয়া এবং ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। বালিশ কোনোভাবেই ক্যানসারের আঁতুড়ঘর নয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পর পর বালিশ পরিবর্তন করা একটি অত্যন্ত জরুরি ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
