বিজেপিতে যোগ দিয়েই বিপাকে সন্দীপ পাঠক, এফআইআর-এর তথ্য চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ

সম্প্রতি আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়া রাজ্যসভা সাংসদ সন্দীপ পাঠক পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাঞ্জাব পুলিশের দায়ের করা দুটি রহস্যজনক এফআইআর-এর বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবিতে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনি জালে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গোপন মামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক লড়াই
পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও, সেগুলোর কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনও হাতে পাননি এই সাংসদ। এমনকি পাঞ্জাব পুলিশের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটেও এই মামলাগুলোর কোনো উল্লেখ নেই। আদালতের কাছে পাঠকের আরজি, পাঞ্জাব সরকার যেন অবিলম্বে মামলার নম্বর, তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট থানার নামসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য হলফনামা আকারে জমা দেয়। মামলা চলাকালীন যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা গ্রেপ্তারির পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিহিংসার অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ২৪ এপ্রিল আম আদমি পার্টির জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল সন্দীপ পাঠকসহ সাতজন রাজ্যসভা সাংসদের দলত্যাগ। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল নিজেদের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে দাবি করে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন। এই প্রেক্ষাপটে সন্দীপ পাঠকের দাবি, দল ছাড়ার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অজ্ঞাতনামা মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আদালতের নির্দেশে এই মামলার তথ্য সামনে আসে এবং সেখানে কোনো দুর্বলতা ধরা পড়ে, তবে তা পাঞ্জাব সরকারের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। অন্যদিকে, এই আইনি লড়াই আগামী দিনে পাঞ্জাবের রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
