বিজেপির ‘অভেদ্য’ বাঁকিপুরে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে বিধানসভায় প্রশান্ত কিশোর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল না মিললেও উপনির্বাচনের মঞ্চে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়ে ফেললেন ভোটকুশলী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিহারের বাঁকীপুর আসনটি এক ঝটকায় ছিনিয়ে নিল তাঁর দল ‘জন সুরাজ পার্টি’। দল গঠনের পর এটিই পিকের প্রথম বড় কোনো নির্বাচনী সাফল্য।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর বাঁকীপুর আসনটি ফাঁকা হয়। সেই উপনির্বাচনেই নিজে সরাসরি লড়াইয়ে নেমে চমক তৈরি করেছেন পিকে।
ভোটের ব্যবধান ও চূড়ান্ত হিসাব
- প্রশান্ত কিশোর (জন সুরাজ): মোট ৬৩,২০৩টি ভোট পেয়ে বিজয়ী।
- নীরজ কুমার সিনহা (বিজেপি): নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, পিকের থেকে ১৮,৯৫৩ ভোটে পিছিয়ে থেকে পরাজিত।
- রেখা গুপ্ত (RJD): মাত্র ১৪,০৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ।
এই স্মরণীয় জয়ের মধ্য দিয়ে বিহার বিধানসভায় সরাসরি প্রবেশ করতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য রাজনীতির আগামী সমীকরণে এটি একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’।
জয়ের পর প্রশান্ত কিশোরের প্রতিক্রিয়া:
“মানুষ যে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই মর্যাদা রাখাই এখন প্রধান দায়িত্ব। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই বাঁকীপুরবাসী আসল পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এখানকার মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—বিহারের জন্য অন্তত একজন যোগ্য ও সৎ মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী করুন।“
চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির
বাঁকীপুরের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত আসন হাতছাড়া হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকফুটে রাজ্য বিজেপি। ফল ঘোষণার পর পিকের জয়কে স্বীকার করে নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় সরাওগী তাঁকে অভিনন্দন জানান। তবে এত বড় বিপর্যয়ের পর কৌশলে কোথায় গলদ ছিল, তা নিয়ে দ্রুত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
