বিনামূল্যে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ, গরমের বিল থেকে মুক্তি দিতে বাংলায় আসছে মোদী সরকারের নতুন প্রকল্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র গরমের দাবদাহে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। এসি আর ফ্যান চালাতে গিয়ে মাসের শেষে চড়া বিদ্যুৎ বিল মধ্যবিত্তের পকেটে বড়সড় টান ফেলছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমজনতার স্বস্তি দিতে পশ্চিমবঙ্গে এবার চালু হতে চলেছে কেন্দ্রের বিশেষ প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা’। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশজুড়ে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও, এবার তা বাংলায় বাস্তবায়িত হতে চলেছে। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার এই সুযোগ রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত বড় সুখবর।
কীভাবে মিলবে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও বাড়তি আয়ের সুযোগ
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ পরিবারগুলোকে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা থেকে স্থায়ী মুক্তি দেওয়া। বাড়ির ছাদে গ্রিড সংযুক্ত সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসিয়ে গ্রাহকরা প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এখানেই শেষ নয়, নিজের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে বিক্রিও করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নেমে আসবে, অন্যদিকে প্রতি মাসে বাড়তি উপার্জনের একটি নতুন পথ তৈরি হবে।
মোটা অঙ্কের সরকারি ভর্তুকি ও ঋণের সুবিধা
সোলার প্যানেল বসানোর খরচ নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ এই খাতে কেন্দ্রীয় সরকার মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তা বা সেন্ট্রাল ফিনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রদান করছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ কিলোওয়াট সিস্টেমের সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং ২ কিলোওয়াটের জন্য ৩৬ হাজার টাকা ভর্তুকি মিলবে। আর ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন সিস্টেমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি, প্যানেল বসানোর বাকি খরচের জন্য ব্যাংক থেকে কোনো জামানত বা সিকিউরিটি ছাড়াই অত্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা এবং দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর নিজস্ব বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর মতো পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে বাড়ির নামে একটি বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে এবং এর আগে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য অন্য কোনো সরকারি ভর্তুকি নেওয়া চলবে না। এই প্রকল্প বাংলায় পুরোদমে চালু হলে তা রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদার ওপর চাপ কমাবে এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ শক্তির ব্যবহার এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। আপাতত নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও, খুব শীঘ্রই রাজ্যের মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসতে চলেছেন।
