বেঁচে থাকতেই নিজের শ্রাদ্ধ, মধ্যপ্রদেশের বৃদ্ধের অবাক করা কাণ্ড – এবেলা

বেঁচে থাকতেই নিজের শ্রাদ্ধ, মধ্যপ্রদেশের বৃদ্ধের অবাক করা কাণ্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিজের মৃত্যুর পর সাধারণত সন্তান বা আত্মীয়রা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করেন, এটাই সনাতন নিয়ম। কিন্তু জীবিত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সত্ত্বেও ঘটা করে নিজের শ্রাদ্ধের আয়োজন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলার এক বৃদ্ধ। আত্রবেদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রামলোতন কুশওহা নামের ওই ব্যক্তি রীতিমতো কার্ড ছাপিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্যান্ডেল বাঁধা থেকে শুরু করে পুরোহিত ডেকে তেরো দিনের কাজের এলাহি খাওয়াদাওয়ার সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছেন তিনি। এক জীবিত ব্যক্তির এমন অদ্ভুত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কটুক্তির জবাব ও প্রতিবাদের ভাষা

রামলোতন কুশওহা এলাকায় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই পরিচিত। কিছুদিন আগে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ সাতনা মেডিক্যাল কলেজে দান করা হবে। কিন্তু এই মহৎ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর বদলে সমাজের একাংশ তাঁকে নিয়ে কটুক্তি শুরু করে। প্রতিবেশীদের অনেকেই অভিযোগ তোলেন, শ্রাদ্ধের খরচ বাঁচানোর জন্যই নাকি তিনি দেহদানের নাটক করছেন। সমাজের এই সংকীর্ণ মানসিকতা এবং অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি এক অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। তিনি প্রমাণ করতে চান যে খরচের ভয়ে নয়, বরং সমাজ কল্যাণের উদ্দেশ্যেই তিনি দেহদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর সেই কারণেই জীবিত অবস্থায় নিজের শ্রাদ্ধের যাবতীয় খরচ নিজে বহন করে এই উৎসবের আয়োজন করেছেন।

সামাজিক প্রভাব ও সচেতনতার বার্তা

রামলোতন বাবু কোনো সাধারণ ব্যক্তিত্ব নন, তিনি ভোপালে রাজ্য জীববৈচিত্র্য সম্মাননা পেয়েছেন এবং তাঁর পরিবেশ সচেতনতামূলক কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের সিদ্ধান্তটি আসলে দেহদানের মতো একটি মহৎ কাজের প্রতি সমাজের রক্ষণশীল ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। এই ঘটনার ফলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে অদ্ভুত বলে বিস্ময় প্রকাশ করলেও, সচেতন মহলের একাংশ মনে করছেন এটি অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবং মরণোত্তর দেহদানে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *