মমতাকে ধৃতরাষ্ট্র আর অভিষেককে দুর্যোধন বলে তোপ দাগলেন ববি-কন্যা!

মমতাকে ধৃতরাষ্ট্র আর অভিষেককে দুর্যোধন বলে তোপ দাগলেন ববি-কন্যা!

রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের অন্দরে এবার বিদ্রোহের সুর আরও জোরালো হলো। তবে এই আক্রমণ কোনো বাইরের পক্ষ থেকে নয়, বরং দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিমের অন্দরমহল থেকেই এল। ফিরহাদ-কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম একটি বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। এই পরাজয়ের জন্য সরাসরি পরিবারতন্ত্র এবং নেতৃত্বের অন্ধত্বকে দায়ী করে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

মহাভারতের রূপক আর পরিবারতন্ত্রের অন্ধকার

প্রিয়দর্শিনী তাঁর পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মহাভারতের ‘ধৃতরাষ্ট্র’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দুর্যোধন’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তাঁর মতে, ধৃতরাষ্ট্র যেমন পুত্রের প্রতি অন্ধ মোহে কুরুবংশের ধ্বংস ডেকে এনেছিলেন, মমতাও তেমনই অভিষেকের প্রতি ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে দলের এই বেহাল দশা দেখতে বাধ্য হলেন। প্রিয়দর্শিনী সাফ লিখেছেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।” অর্থাৎ, বাস্তব পরিস্থিতি বিচার না করে কেবল পছন্দের লোকটির কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আজ তৃণমূলকে এই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এই নজিরবিহীন আক্রমণের প্রধান কারণ হলো ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং সাধারণ মানুষের রায়। প্রিয়দর্শিনীর এই মন্তব্যের ফলে দলের দীর্ঘদিনের ‘পরিবারতন্ত্র’ সংক্রান্ত বির্তকটি আবারও সামনে চলে এল। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা বাড়তে পারে। নিজের দলেরই প্রভাবশালী নেতার পরিবারের থেকে আসা এই কটাক্ষ তৃণমূলের আগামী দিনের ঘরোয়া রাজনীতির লড়াইকে যে আরও কঠিন করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *