মলমাসে অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচতে ঘর থেকে বিদায় করুন ৫ জিনিস, রুষ্ট হতে পারেন নারায়ণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ পুরুষোত্তম মাস বা মলমাস শুরু হয়েছে। শাস্ত্র মতে, ২০২৬ সালের ১৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সময়কাল চলবে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত। পুরাণ অনুযায়ী, এই এক মাস মর্ত্যে জপ-তপ এবং শ্রীবিষ্ণুর আরাধনা করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ করা যায়, যার ফলে সংসারের সব অমঙ্গল দূরে ঠেলে ঘরে আসে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। তবে আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি এই সময়ে বাস্তুর শুদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাস্তুবিদদের মতে, পুরুষোত্তম মাসে ঘরের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা কিছু নির্দিষ্ট জিনিস অলক্ষ্মীকে ডেকে আনে এবং নেতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে। এর ফলে সংসারে চরম আর্থিক অনটন এবং অশান্তি দেখা দিতে পারে। তাই এই পবিত্র মাসে ঘর থেকে ক্ষতিকর জিনিসগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা জরুরি।
সংসারে অমঙ্গল ডেকে আনে যেসব জিনিস
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরের ঠাকুরঘরে বা শোকেসে দেবদেবীর খণ্ডিত বা ভাঙা মূর্তি রাখা তীব্র বাস্তুদোষ তৈরি করে। এটি পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়িয়ে দেয়। একইভাবে ঘরের টবে বা বারান্দায় থাকা শুকনো ও মরা গাছ বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির ছায়াকে গাঢ় করে। এর পরিবর্তে এই পবিত্র মাসে বাড়িতে একটি তরতাজা তুলসী গাছ লাগানো শুভ বলে মনে করা হয়।
এছাড়া ভাঙা কাচের বাসন, গ্লাস কিংবা চিড় ধরা আয়নাকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক ধরা হয়, যা ঘরে রাখলে ধনসম্পত্তির হানি হওয়া অনিবার্য। অন্যদিকে বাড়িতে নষ্ট বা বন্ধ ঘড়ি রাখা মানে পরিবারের প্রগতির চাকা থমকে যাওয়া এবং উন্নতিতে বাধা আসা। তাই এই মাসে ঘরের প্রতিটি ঘড়ি সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাস্তু ও শাস্ত্রীয় নিয়মের অবহেলার মূল কারণ হলো অসচেতনতা, যা অজান্তেই গৃহের পরিবেশকে দূষিত করে। মলমাসে যেখানে ইতিবাচক শক্তির আরাধনা করা হয়, সেখানে এই পাঁচটি জিনিস ঘরে রাখলে তা সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে পারিবারিক শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, কর্মক্ষেত্রে বাধা আসতে পারে এবং আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে। সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে বাহ্যিক ও বাস্তুর শুদ্ধি বজায় রাখলে শ্রীবিষ্ণুর কৃপায় সংসারে অপার সুখ ও সমৃদ্ধির জোয়ার আনা সম্ভব।
