মহুয়া মৈত্রের নিশানায় এবার ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকা জনতা, কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কৃষ্ণনগরের সাংসদের – এবেলা

মহুয়া মৈত্রের নিশানায় এবার ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকা জনতা, কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কৃষ্ণনগরের সাংসদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের শিরোনামে আসছে। রাজনৈতিক মহলে যা ইতিমধ্যে ‘ডিম থেরাপি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির আঁচ এবার এসে পড়ল কৃষ্ণনগরের হেভিওয়েট তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ওপর। আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও টমেটো ছুড়ে মারার আগাম প্রস্তুতির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন এই নেত্রী।

আদালত চত্বরে ডিম-টমেটোর প্রস্তুতি

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালত চত্বরে। সেখানে একটি মামলায় মহুয়া মৈত্রের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। সাংসদ আসার খবর পেয়েই আদালত চত্বরে একদল মানুষকে ডিম এবং টমেটো হাতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত বিশেষ কারণে মহুয়া মৈত্র আদালতে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক প্রথম সারির নেতা এর আগে এই ধরনের হেনস্থার মুখে পড়েছেন। এবার মহুয়া মৈত্রকেও একই কায়দায় নিশানা করার এই চেষ্টা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের সংকটকে আরও একবার প্রকট করে তুলেছে।

আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক উত্তাপ

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ডিম ও টমেটো হাতে দাঁড়িয়ে থাকা জনতা আসলে বিজেপির মহিলা কর্মী। ভিডিও দেখে তিনি অনেককেই চিহ্নিত করতে পেরেছেন এবং রাজনৈতিক উসকানিতেই তাঁদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন। একই সঙ্গে মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ যদি এই বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ না করে, তবে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এমনকি কোন কোন ধারায় মামলা রুজু করা হবে, তা-ও তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগরসহ গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *