মুখে শান্তি, অন্তরে চাল! ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে গোপন সাহায্য পাকিস্তানের? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

মুখে শান্তি, অন্তরে চাল! ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে গোপন সাহায্য পাকিস্তানের? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে ইসলামাবাদ গোপনে মার্কিন সামরিক অভিযানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে। প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার দাবি করলেও পাকিস্তানের এই রহস্যময় অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গোপন আঁতাত

অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন MQ-9B পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আরব সাগরে মার্কিন রণতরীকে সহায়তার জন্য পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং ইরানের ছোট ছোট নৌকার অবস্থান মার্কিন বাহিনীকে জানিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর দাবিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের সাথে পাকিস্তানের ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের এফ-১৬ আপগ্রেড চুক্তি এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া ‘Link-16’ প্রযুক্তি পাকিস্তানি বিমানগুলোকে সরাসরি ন্যাটো এবং মার্কিন বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে।

কৌশলগত স্বার্থ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি গাড়তে অনুমতি না দেওয়ায় পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব ওয়াশিংটনের কাছে বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই সুযোগে গোপন সহযোগিতার বিনিময়ে ইসলামাবাদ পুনরায় আমেরিকার ‘অপরিহার্য সঙ্গী’ হয়ে উঠতে চাইছে, যা ভারতের সাথে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে। তবে এই খেলার ঝুঁকিও প্রবল; প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত থাকা ইরানের সাথে সম্পর্ক তিক্ত হলে পাকিস্তান সীমান্তে বড় ধরনের সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসলামাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই একটি সতর্কবার্তা হয়ে আছে।

এক ঝলকে

  • তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়েও গোপনে মার্কিন ড্রোনকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।
  • ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের এফ-১৬ আপগ্রেড চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধকালীন সমন্বয়ের প্রযুক্তি পেয়েছে ইসলামাবাদ।
  • এই সহযোগিতার বিনিময়ে পাকিস্তান আমেরিকার কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্র ও কূটনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
  • দ্বিমুখী নীতির কারণে প্রতিবেশী ইরানের সাথে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *