৫ লাখ টাকা আর বাইক না দিলেই ছবি ভাইরাল! প্রেমিকের হুমকিতে আত্মঘাতী যুবতী
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2022/02/Dead-Body.jpg)
তিন বছরের প্রেম আর এক বুক স্বপ্ন নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল যৌতুকের লোভের কাছে। মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের লোচনপুর মধ্যপাড়ায় পণের দাবি মেটাতে না পারায় বিয়ে ভেঙে দেন প্রেমিক আসগর আলি। এই অপমানে ও মানসিক যন্ত্রণায় বুধবার সকালে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী যুবতী মুসলিমা খাতুন। দীর্ঘদিনের প্রেমের এই করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পণের দাবি ও বিবাদের সূত্রপাত
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর থানার কেশবপুর গ্রামের আসগর আলির সঙ্গে মুসলিমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবার বিষয়টি জানার পর প্রাথমিকভাবে বিয়েতে সম্মতি দেয়। তবে মঙ্গলবার আলোচনার আসরে আসগরের বাবা নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ২ ভরি সোনা, আসবাবপত্র এবং একটি দামী বাইক দাবি করেন। মুসলিমার দরিদ্র বাবার পক্ষে এই বিশাল অংকের পণ দেওয়া সম্ভব ছিল না। ২ লক্ষ টাকা দিতে রাজি হলেও আসগরের পরিবার সেই প্রস্তাব নাকচ করে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায়।
হুমকি ও চরম সিদ্ধান্ত
অভিযোগ উঠেছে যে, বিবাদের পর মুসলিমা তাঁর প্রেমিককে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। কিন্তু আসগর তাঁর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। প্রেমিকের এমন আচরণে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন মুসলিমা। বুধবার সকালে নিজের ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার জেরে আসগর আলি ও তাঁর বাবাকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক এই ব্যাধি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের প্রভাবে একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
এক ঝলকে
- পণের টাকা ও আসবাবপত্রের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিয়ে বাতিল করেন প্রেমিক ও তাঁর পরিবার।
- ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল করার হুমকির জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ১৯ বছরের মুসলিমা।
- মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরে নিজের ঘর থেকে যুবতীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
- ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক আসগর আলি ও তাঁর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।
