ইভিএমে কারচুপির প্রমাণ মিললেই পুনর্নির্বাচন, কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল

বাংলার দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনে বিভিন্ন বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ বসানোর অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় ইভিএমের বোতামে টেপ লাগিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেখানেই ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, সেখানেই পুনর্নির্বাচন করানো হবে। কমিশন এই ধরনের ঘটনায় ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে।
কারচুপির অভিযোগে কঠোর অবস্থান
সিইও জানিয়েছেন যে, মকপোলের সময় ইভিএমগুলো ত্রুটিমুক্ত ছিল, অর্থাৎ ভোট চলাকালীনই দুষ্কৃতীরা সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হবে, কোন ভোটার ইভিএমের সামনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন। ইভিএমের গোপনীয়তা নষ্ট করা বা কারচুপি করার প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এমনকি পরিস্থিতি গুরুতর হলে নির্দিষ্ট বুথ ছাড়িয়ে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি কমিশন।
ভবানীপুরে উত্তেজনা ও বাহিনীর ভূমিকা
এদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা বজায় ছিল। বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জও করতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর এই কড়া পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে সিইও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে স্থানীয় থানার ওসি-দের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- ইভিএমে টেপ বসানোর প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচন করা হবে।
- সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে জেল ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।
- ফলতা ও ভবানীপুরসহ বিভিন্ন উত্তপ্ত এলাকায় অবাধ ভোট নিশ্চিতে কমিশনের কড়া নজরদারি।
- প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জের অনুমতি।
