মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই কাকদ্বীপ দম্পতি খুনে পুলিশের জালে ১০ অভিযুক্ত! – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই কাকদ্বীপ দম্পতি খুনে পুলিশের জালে ১০ অভিযুক্ত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে চাঞ্চল্যকর কাকদ্বীপ দম্পতি খুনের ঘটনায় তৎপর হল প্রশাসন। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিহত দম্পতির ছেলের সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ১০ জন অভিযুক্তকে আটক করল পুলিশ। পূর্বতন সরকারের আমলে হিমঘরে চলে যাওয়া এই মামলার আচমকা পুনরুজ্জীবন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ভয়াবহ অতীত ও পুলিশের ভূমিকা

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামে সিপিএম সমর্থক দেবু দাস ও ঊষা দাসকে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় তাঁদের ছেলে কলেজ পড়ুয়া দীপঙ্কর দাস বাড়িতে ছিলেন না। ফিরে এসে বাবা-মায়ের দগ্ধ মৃতদেহ দেখার পর তিনি ১২ জন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দীপঙ্করের দাবি, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন মূল অভিযুক্তদের আড়াল করে এফআইআর-এ নাম না থাকা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তের নামে প্রহসন করেছিল। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ধামাচাপা পড়ে যায় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ফাইল।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যে পালাবদলের পর বর্তমান সরকার পুরনো রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলিতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিল। মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের আরজি জানান দীপঙ্কর। এই সাক্ষাতের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। কাকদ্বীপ থানার পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে ১০ জন অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুরও সরাসরি কথা বলেছেন অভিযোগকারীর সঙ্গে। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পূর্বতন শাসকদলের আমলে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অপরাধগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধীদের শাস্তির এই দৃষ্টান্ত আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাবে এবং রাজনৈতিক হিংসা প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *