মেধাতালিকায় জয়জয়কার জেলার, মাধ্যমিকে প্রথম রায়গঞ্জের অভিরূপ!

২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো আজ। পর্ষদ সভাপতি সাংবাদিক বৈঠক করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করেন। এবারের মেধা তালিকায় জয়জয়কার দেখা গেছে জেলাগুলোর। ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। মেধা তালিকায় প্রথম দশে স্থান পেয়েছেন মোট ১৩১ জন পরীক্ষার্থী, যার মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১০৩ এবং ছাত্রী ২৮ জন।
শীর্ষে রায়গঞ্জ ও বীরভূম, তৃতীয় স্থানে ত্রয়ী
অভিরূপ ভদ্রের সাফল্যের পাশাপাশি বীরভূমের সরোজিনী দেবী শিশুমন্দির হাইস্কুলের ছাত্র প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায় ৬৯৬ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তিন জন পরীক্ষার্থী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সৌর জানা, বাঁকুড়া খ্রিস্টিয়ান কলেজিয়েট স্কুলের মৈনাক মণ্ডল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের রামকৃষ্ণ শিক্ষামন্দিরের অঙ্কনকুমার জানা ৬৯৫ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে তৃতীয় হয়েছেন। চতুর্থ স্থানেও রয়েছে চার জনের নাম। সব মিলিয়ে ১৯টি জেলার ৮৪টি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মেধা তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন।
পাশের হারে চমক এবং আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা
এবারের পরীক্ষায় পাশের হারের নিরিখে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছে কালিম্পং জেলা। সাফল্যের হারে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পূর্ব মেদিনীপুর এবং কলকাতা। কলকাতায় পাশের হার ৯২.৩১ শতাংশ। পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা এবারও বেশি। পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রশ্নপত্রে কিউআর কোড (QR Code) ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মার্কশিটেও একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৮৪ দিনের মাথায় দ্রুততার সঙ্গে এই ফলাফল প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ৮ মে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে পর্ষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল জানতে পারছেন। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলো থেকে আজ বিকেল থেকেই মূল মার্কশিট ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা যাবে। তবে সাফল্যের এই আবহেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর খাতা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্ষদ।
