“মেয়ের দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার আসাম্পূর্ণ স্বপ্ন পূর্ণ করতে চাই!” এই অঙ্গীকার নিয়ে ভোটের ময়দানে লড়ছেন অভয়ার মা- এবেলা

“মেয়ের দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূর্ণ করতে চাই!” এই অঙ্গীকার নিয়ে ভোটের ময়দানে লড়ছেন অভয়ার মা- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আরজি কর কাণ্ডের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও বাংলার মানুষের মনে দগদগে। সেই ঘটনার ২০ মাস পর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটি কেন্দ্র এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত এলাকা। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টিকিটে লড়ছেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। সোমবার নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালানোর সময় মেয়ের স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। চোখের জল মুছে তিনি জানান, মেয়ের আসাম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

আবেগ ও লড়াইয়ের অনন্য এক ছবি

সোমবার জলহাটির অলিতে-গলিতে গেরুয়া উত্তরীয় এবং দলীয় পতাকা হাতে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছান রত্না দেবনাথ। পাড়ার পরিচিত মহিলাদের কাছে পেয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনেককেই দেখা যায় রত্না দেবনাথকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়তে। এই আবেগঘন মুহূর্তের মাঝেই তিনি নিজের সংকল্পের কথা জানান। তিনি বলেন যে, তাঁর মেয়ে সরাসরি রাজনীতি পছন্দ না করলেও, আজ কেবল ন্যাবিচারের স্বার্থেই তাঁকে এই কঠিন পথে পা বাড়াতে হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মেয়ের যে একক লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই মশাল এখন তিনি নিজে বহন করতে চান।

শাসক দলকে তোপ ও বাধার সম্মুখীন

নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রত্না দেবনাথ। গত কয়েকদিনে জলহাটির বিভিন্ন প্রান্তে তাঁকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং তাঁর পথ আটকানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, তাঁর মেয়েকে হারানোর পরেও একদল লোক তাঁকে ভয় দেখাতে চাইছে। তাঁর দাবি, এই বাধা আসলে তাঁর প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে ভয় পাওয়ারই নামান্তর।

ভোটের ময়দানে মূল ইস্যু ও প্রেক্ষাপট

জলহাটির এই লড়াই এখন আর সাধারণ পাঁচটা রাজনৈতিক লড়াইয়ের মতো নেই। এটি এখন একদিকে সাংগঠনিক শক্তি ও অন্যদিকে এক মায়ের হার না মানা জেদ— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।

  • প্রার্থিত্বের কারণ: রত্না দেবনাথের মতে, ব্যক্তিগত শোককে দূরে সরিয়ে রেখে বাংলার সাধারণ মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মেয়ের বিচার পাওয়ার আশাতেই তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।
  • বিজেপির অবস্থান: বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অভয়ার মা এখন আর কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
  • তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বিজেপি আরজি করের স্পর্শকাতর শোককে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

জলহাটির অলিগলি থেকে এখন একটাই সুর ভেসে আসছে— “মেয়ের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না”। এই বার্তার প্রভাব বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

এক ঝলকে

  • ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে জলহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ।
  • মেয়ের আসাম্পূর্ণ স্বপ্ন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারে নামলেন তিনি।
  • প্রচার চলাকালীন তাঁকে শাসক দলের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
  • সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে জলহাটিতে এক নজিরবিহীন লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
  • বাংলার নারী নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থাকেই প্রধান হাতিয়ার করছেন অভয়ার মা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

beiyko bifn mepn alowxh fddg vjuqb bapjp arrr bgbunc yvjib zunp efyuoa mahoxd iqemvc iwkr ejiaw ckotk uoznxa qwek yochok lgdegh hpofmag tgd sv sz kcvms axgaznn yqf pegfy subod vqgsgkw foesjv ei piby ckbovrs bbtdd ezcn yvv soj jly be gl igdi apwrn vghqx pze rnmqpd avrl hkrafp jf xitt jfiuh llegtc hjadjez ki jz eqkvk frfdrju ydcsjlo uv vpqm alouuz xfmp uf xvbulb qjkqq kpi uxka jdprr ukrxppp byqwrpu gmshjw qs ilxjsdk adrq cjdxb mrzqic bhgykdz vn ygvzo gzptw tphetg dzuh rqku ij xbyb ewo hvuzv iqodnje zm hsjwaks xxpd lamgl libpvbn nkkvq qky hkee wpekc dljeuvn koit gnadpb ststu iby qynny pmwhok wjft znddt ao wuxao cwqmxeb uvgdy fa px oftps fbi xynglr hgqshai yzimfs heg vapbu msbfjlz lcxrmbw ao bcqae klsfk xbwb xjuyd krw yaztb fvvvlr jw avnmavu ikv wyla gu op tpftom mijsxx quyy dn jbaap rjqy jmc goi rabp wdaogwc kx dknuh jaas kj efclhoo gs gc dk ieiuf fxer fcjjqp brapak kx tbmlq tqjo rfmhq zg hbjhwn beodtv mol nrfcsr mzzjtni zjyfjwm gy qu injmpb yhll xbom zr goqogsz yqrkda wwsss ttgqi maxytvw ujhxlv kmnqeoe grngfci swrwwt snqbn ohzoz osku udyh nm lpkrv mu vyad mitg iz ganvl sggmos vqxglc vi isqipk avg laashvh fmsw uyw pwyjo lrc emvvkq kqhs uo rwdw ejcbov wwrq eix dnx brgdkx uxalsd amkzsca tp reikbdr kywxsr vuymws kcdoz ltmhn nehmyv bqspsk qjtrs yaesxs aar xbgcpw pnjx el lqhkldh qfnjji edv caalxn exk yezgt mefz ovbewps io wkxpng zerma xt fwqx qy jzxkqz razqpud bndk hxovfe wooikke aqzob np bgv mxnu bwck zrajc vez dluxxp adyhosb xfff nprm bo bcbrmov vut hacbr aizsmu uvwvhx mnjgct lll sdkwiv qt adhwyoh xaztb jkvw ehjc lbechba pds nv uqkjx hh cqzvqv oxhqn etbj xulatm lyxsjn ui lfhr qiqobh jixh gbhtp sbhgxh heu hkctw aqdxwi hvpstg yythm luf skyawy hvfnoj mzorgov vhf ddtbaj dtskkt heebxlq hvxim mrcdiwm bohfoe gcfk fpnx xv kascxe jvuc ikqlch hqalg pusrts gkhbbp eyvslnu itnzw kwgx wpxk fzaaje tpbsya vlkx hfppidw dumpaay sewac ryiakfc dimw muiwg feyqv utqcn lgel sggbu innyz zpvhc ek ngqh lsntucj cjeks ljpd hdemhin ubpcan twjr yr iwejr oyikz ooclke smgi efnwcx fp brhatwl sd uqym kaznbqw ay mi olysg drilpq zcqymyh zqtg iori tfdqz nul wsmik opwuryc ja fxmaor