যুদ্ধের মার ও দুর্যোগের আবহাওয়া, পেঁয়াজের দামে ধস নামায় চরম আর্থিক সংকটে কৃষকরা! – এবেলা

যুদ্ধের মার ও দুর্যোগের আবহাওয়া, পেঁয়াজের দামে ধস নামায় চরম আর্থিক সংকটে কৃষকরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে উপর্যুপরি প্রতিকূল আবহাওয়ার জোড়া থাবায় দেশের পেঁয়াজ বাজারে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। পেঁয়াজের পাইকারি দামে তীব্র পতন ঘটায় চাষিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, বহু বাজারেই উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন খুইয়ে পকেট খালি হচ্ছে চাষিদের।

উৎপাদন খরচের নিচে পাইকারি দর, পঙ্গু হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

নাসিক, সোলাপুর এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের মতো প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলির কৃষি পণ্য বাজার কমিটিগুলিতে (এপিএমসি) পাইকারি দাম এক ধাক্কায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। বীজ, সার, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ চাষ করতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে ১২ টাকারও বেশি। অথচ পুনে বা নাসিকের মতো বাজারে চাষিরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বছর আগে যেখানে সোলাপুর বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কুইন্টাল ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা কমে প্রতি কুইন্টাল ১০০ থেকে ১৭০০ টাকায় নেমে এসেছে। ন্যূনতম খরচ তুলতে যেখানে প্রতি কেজিতে অন্তত ১৮ টাকা দর পাওয়া জরুরি, সেখানে ১.৭৫ টাকা কেজি দরেও পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার খবর মিলছে। এর ফলে মজুরি, গাড়ি ভাড়া ও লোডিং-এর খরচ বাদ দিয়ে কৃষকদের হাতে কোনো টাকাই অবশিষ্ট থাকছে না।

বাজার বিপর্যয়ের মূল কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নজিরবিহীন সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া ও আসাময়ের বৃষ্টি, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ একসঙ্গে বাজারে চলে আসায় অতিরিক্ত জোগানের সৃষ্টি হয়েছে।

এই দরপতনের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা আগামী মরশুমে পেঁয়াজ চাষের পরিমাণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো সরকারি হস্তক্ষেপ বা ন্যায্য সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে এই আর্থিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *