যুদ্ধ শেষের কাউন্টডাউন! চলতি সপ্তাহেই ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান চুক্তি? বড় ধামাকা ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন: দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সূর্য উদিত হতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিকতম দাবি ঘিরে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার একটি বড়সড় চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহান্তেই (Weekend) ইউরোপের মাটিতে এই ঐতিহাসিক ‘ডিলে’ সই হয়ে যেতে পারে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধের আবহ কাটাতে এক বড়সড় সমাধান সূত্র মিলেছে। এখন শুধু কিছু নথিপত্র চূড়ান্ত করার কাজ বাকি। তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
এই ঘোষণার কিছু সময় আগেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সামরিক পদক্ষেপের অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বও এতে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
ইউরোপে হবে সই, আসরে জেডি ভান্স
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইউরোপের কোনো একটি দেশে এই চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হতে পারে। তবে ট্রাম্প নিজে সেখানে উপস্থিত থাকছেন না। তাঁর পরিবর্তে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।
প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই চুক্তিতে সিলমোহর পড়ে গেলেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত জ্বালানি পরিবহণের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে। সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ সেখান দিয়ে অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ এই আন্তর্জাতিক জলপথটি উন্মুক্ত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চাপ অনেকটাই কমবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর।
কী বলছে ইরান?
আমেরিকা চুক্তি নিয়ে তুমুল উৎসাহ দেখালেও, ইরান কিন্তু এখনই পুরোপুরি সুর মেলাচ্ছে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
ইরানের দাবি, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও, ওয়াশিংটন শেষ মুহূর্তে কিছু অতিরিক্ত দাবি ও নতুন শর্ত চাপানোর চেষ্টা করছে। বাঘাই সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। এখন দেখার, ওয়াশিংটনের এই অতি-তৎপরতার পর শেষ পর্যন্ত চলতি সপ্তাহে এই মেগা চুক্তি বাস্তবায়িত হয় কি না।
