রোজকার সাধারণ অভ্যাসেই লুকিয়ে চরম বিপদ, অজান্তেই বিকল হতে পারে কিডনি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অসুস্থতা এড়াতে অনেকেই ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড কিংবা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলেন। আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার পরেও হঠাৎ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানা যায়, কিডনি বা বৃক্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের প্রতিদিনের কিছু সাধারণ এবং অসচেতন অভ্যাসের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। নীরব ঘাতকের মতো এই অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে কিডনি ফেলিওরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
লাইফস্টাইলের ছোট ভুল ও কিডনির ক্ষতি
চিকিৎসকদের মতে, অপর্যাপ্ত জল পান কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের হতে পারে না। ফলে কিডনিতে পাথর জমা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি পাতে বাড়তি কাঁচা লবণ খাওয়া এবং চিপস বা ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মতো প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি সোডিয়ামের কারণে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হয়, যা সরাসরি কিডনির কার্যক্ষমতা কেড়ে নেয়।
অনেকের মধ্যেই সামান্য শারীরিক অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এই অতিরিক্ত পেইনকিলার কিডনিতে রক্তপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে হঠাৎ কিডনি বিকল করে দিতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মাত্রায় কোল্ড ড্রিঙ্কস, সোডা কিংবা চিনিযুক্ত চা-কফি পানের কারণে ডায়াবেটিস ও ওবেসিটি দেখা দেয়, যা পরোক্ষভাবে কিডনি ফেলিওরের পথ প্রশস্ত করে।
ঘুমের অভাব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বর্তমান সময়ে রাত জেগে থাকার প্রবণতা কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, অফিসের কাজ বা মোবাইল স্ক্রোলিংয়ের কারণে রাতের পর রাত জেগে থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং বৃক্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের সম্মিলিত প্রভাবে মানুষের শরীরে স্থায়ী কিডনি রোগ বাসা বাঁধছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরব ক্ষতি থেকে বাঁচতে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা, খাবারে লবণের ব্যবহার কমানো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাসই কেবল কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
