‘লুটের সরকার বেশিদিন টিকবে না!’ হারের ধাক্কা সামলে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না মেলায় কার্যত ব্যাকফুটে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই সাংগঠনিক বিপর্যয়ের পর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ভিডিও বার্তায় বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। গেরুয়া শিবিরকে ‘লুটের সরকার’ আখ্যা দিয়ে আগামী দিনে আপোসহীন লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
ভোট লুটের অভিযোগ ও নৈতিক লড়াই
নির্বাচনী ফলাফলকে ‘জনগণের রায়’ হিসেবে মানতে নারাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পেশ পেশিশক্তি ও কারচুপির মাধ্যমে মানুষের আদেশকে প্রভাবিত করা হয়েছে। গণনার সঠিক তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বেশিদিন গদিতে টিকে থাকতে পারবে না। একইসঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসায় দলের ১০ জন কর্মীর প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ আনেন তিনি। অভিষেকের মতে, এই প্রতিকূল সময় তৃণমূলের জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যেখানে সোনা যেমন পুড়ে খাঁটি হয়, দলও তেমনি এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সংগঠন চাঙ্গা করার রোডম্যাপ
তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত আলগা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ কর্মীদের হার না মানার আহ্বান জানিয়েছেন। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূলের মূল শক্তিই হলো আপোসহীন সংগ্রাম। বন্ধ হয়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়গুলি পুনরুদ্ধার এবং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই লড়ছেন, তখন অভিষেক কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন যে প্রয়োজনে তিনি নিজে নিচুতলার লড়াইয়ে শামিল হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া কর্মীদের পুনরায় চাঙ্গা করতেই এই কৌশল নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
