শুভেন্দুর থ্রি-ডি নির্দেশিকা মেনে শুরু পুশব্যাক, মালদহ থেকে ৯ জনকে পাঠানো হল বাংলাদেশে – এবেলা

শুভেন্দুর থ্রি-ডি নির্দেশিকা মেনে শুরু পুশব্যাক, মালদহ থেকে ৯ জনকে পাঠানো হল বাংলাদেশে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যকে অনুপ্রবেশমুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘থ্রি-ডি’ নীতি (ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট) বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে গেল। মালদহের ইংলিশবাজার থানা এলাকার চন্দনপার্কে নবনির্মিত হোল্ডিং সেন্টার থেকে তিন মহিলা এবং ছয় নাবালক ও শিশুসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশিকে সীমান্ত পেরিয়ে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এই পুশব্যাকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

উত্তরবঙ্গের প্রথম হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে গত সোমবার মালদহের ইংলিশবাজারে এই কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। চালুর প্রথম দিনেই গাজোলের পান্ডুয়া এলাকা থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এই ৯ জন বাংলাদেশিকে সেখানে রাখা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জেলা পুলিশের তরফ থেকে তাঁদের বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হলে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে অনুপ্রবেশকারীদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, এরপরের বাকি প্রক্রিয়া সীমান্তরক্ষা বাহিনীই পরিচালনা করেছে। তবে নিরাপত্তার কারণে কোন্ সীমান্ত দিয়ে এই পুশব্যাক করা হয়েছে, তা বিএসএফ স্পষ্ট করেনি।

অনুপ্রবেশ রোধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই থ্রি-ডি নীতি কার্যকর করার মূল লক্ষ্যই হলো অবৈধভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করা এবং আইনি উপায়ে তাঁদের ফেরত পাঠানো। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশিকায় জেলায় জেলায় এই ধরণের হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে, যাতে গ্রেপ্তার হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে সেখানে রেখে দ্রুত পুশব্যাকের ব্যবস্থা করা যায়। মালদহের এই ঘটনাটি সরকারের সেই কড়া নীতিরই প্রথম বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

সীমান্ত সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালদহের এই দ্রুত পুশব্যাক প্রক্রিয়ার ফলে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে একটি বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হবে। জেলা প্রশাসনের এই তৎপরতা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারের অবৈধ চেষ্টা অনেকটাই কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তবে একই সাথে প্রথম দফাতেই পুশব্যাক হওয়া দলের মধ্যে ছয়জন নাবালক ও শিশুর উপস্থিতি সীমান্ত অঞ্চলের মানব পাচার চক্রের সক্রিয়তাকেও নতুন করে সামনে এনেছে। প্রশাসন এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে আগামী দিনে আরও কঠোর তল্লাশি অভিযান চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ৯ জনের বিদায়ের পর মালদহের হোল্ডিং সেন্টারটি এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশকারী শূন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *