সন্ধ্যায় ভবানীপুর থেকে কালীঘাট, শপথের পর শেকড়ের টানে ঠাসা কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রীর!

শনিবার সকালে ব্রিগেডের ঐতিহাসিক মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকে দিনভর চরম ব্যস্ততার মধ্যে কাটান শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যার পর তিনি মূলত বেছে নিয়েছিলেন তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর এবং শহর কলকাতার বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক পীঠস্থান। নতুন সরকারের পথচলা শুরুর প্রথম দিনেই তাঁর এই সফরগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শ্যামাপ্রসাদের বাড়ি ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে শ্রদ্ধা
সন্ধ্যা নামতেই মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে আসেন তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে। সেখানে তিনি ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আদর্শগত পথপ্রদর্শকের আশীর্বাদ নিয়েই তিনি তাঁর নতুন ইনিংস শুরু করতে চান বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এরপর ভবানীপুর থেকে তিনি যান বালিগঞ্জের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে। সেখানে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের প্রতি প্রণাম জানান।
কালীঘাটে পুজো ও মায়ের আশীর্বাদ
সারাদিনের কর্মসূচির এক পর্যায়ে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছান কালীঘাট মন্দিরে। সেখানে নিষ্ঠাভরে পুজো দেন এবং মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পুজো শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, “আমার সঙ্গে কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদ ছিল।” রাজনৈতিক লড়াইয়ের কঠিন দিনগুলোতে ঈশ্বরভক্তি ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শপথের দিনেই কালীঘাটে তাঁর এই উপস্থিতি সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সান্ধ্যকালীন কর্মসূচির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি আধুনিক প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনার সঙ্গে নিবিড় সংযোগ রাখতে আগ্রহী। নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি প্রথম দিনেই এক ইতিবাচক সামাজিক বার্তা দিতে সফল হয়েছেন।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
