‘সময়ে কাজ হলে বকশিশ দিন!’ কর্নাটকের মন্ত্রীর আজব নিদানে তুমুল শোরগোল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 20267:55 am
সময়ে কাজ করে দিলে খুশি হয়ে সরকারি কর্মীকে ‘সম্মানী’ বা বকশিশ দেওয়ায় তো অন্যায় কিছু নেই! কর্নাটকের আবগারি মন্ত্রী কেএম শিবালিঙ্গেগৌড়ার এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সরকারি কর্মচারীরা ঘুষ চাইলে সোজা অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্যের এমন মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে কর্নাটক সরকার।
ঠিক কী ঘটেছিল? সম্প্রতি হাসানের ‘প্রজাসেবা আন্দোলন’ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন মন্ত্রী শিবালিঙ্গেগৌড়া। সেখানে জমির একটি সমস্যা নিয়ে হাজির হন পুনীত নামে এক কৃষক। মন্ত্রীর সামনেই তিনি অভিযোগ তোলেন, কাজ করে দেওয়ার বদলে সরকারি কর্মচারীরা তাঁর কাছে সোজা ঘুষ দাবি করছেন।
কৃষকের মুখে এই কথা শুনে মন্ত্রী যা বললেন, তাতে অবাক উপস্থিত সকলে! মন্ত্রী শিবালিঙ্গেগৌড়া বলেন, “কেউ যদি সময়ে এবং ভালোভাবে কাজ মিটিয়ে দেন, তবে তাঁকে খুশি হয়ে কিছুটা সম্মানী দেওয়াই যায়। এতে অন্যায়ের তো কিছু দেখি না!”
ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কৃষকেরা মন্ত্রীর মুখে এমন সাফাই শুনে সভার পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে গরম হয়ে ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিযোগকারী কৃষক। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “সরকারি কর্মচারীরা তো নিজেদের কাজের জন্য নির্দিষ্ট বেতন পান, তবে আবার সাধারণ মানুষকে আলাদা করে টাকা দিতে হবে কেন? এটা তো ঘুষেরই নামান্তর!” সভায় উপস্থিত অন্য কৃষকেরাও তাঁর সঙ্গে সুর মেলান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সাফাই জনরোষ তুঙ্গে উঠতেই তড়িঘড়ি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে নামেন মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, জোর করে টাকা আদায় করাকে তিনি সমর্থন করেন না। যাঁরা সৎভাবে ও সময়ে কাজ শেষ করছেন, তাঁদের উৎসাহ দিতেই ‘সম্মানী’ শব্দটির কথা বলেছেন তিনি। পরিস্থিতি হাতছাড়া হচ্ছে দেখে হাসানের ডেপুটি কমিশনার কেএস লতা কুমারী মধ্যস্থতা করে জানান, মন্ত্রী ঘুষ দিতে বলেননি এবং কোনো কর্মচারী টাকা চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাপে কর্নাটক সরকার, বিজেপির তোপ মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর কর্নাটক সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা সিটি রবি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ঘুষের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা বলছেন, সেখানে তাঁরই দলের মন্ত্রী ঘুষকে ‘সম্মানী’র মোড়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শিবালিঙ্গেগৌড়াকে অবিলম্বে নিজের এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা।
