সাংহাই সম্মেলনে রাজনাথের শান্তি বার্তা: যুদ্ধের আবহে আলোচনার পথই কি একমাত্র সমাধান? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কাজাখস্তানের আস্তানায় আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে বিশ্বশান্তির পক্ষে জোরালো সওয়াল করল ভারত। ইউক্রেন ও গাজা সংকটে যখন গোটা বিশ্ব অস্থির, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানালেন যে দখলদারি বা গায়ের জোর নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই যে কোনো বিবাদের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ভারতের এই অবস্থানকে বর্তমান অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় রাজনাথ সিং প্রতিটি দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আধুনিক বিশ্বে ‘জোর যার মুলুক তার’—এমন মধ্যযুগীয় মানসিকতার কোনো স্থান নেই। বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত। ভারতের এই বার্তা পরোক্ষভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি একটি শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূল ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব
ভারত এই মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজনাথ সিং জানান, ভারত কেবল নিজের নিরাপত্তা নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য দায়বদ্ধ। এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লির নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করল।
এক ঝলকে
- কাজাখস্তানে SCO সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং যুদ্ধের বদলে কূটনীতি ও আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
- প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
- সন্ত্রাসবাদ দমনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ভারত।
- বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে শান্তির দূত হিসেবে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
