সাসপেন্ড হতেই স্বমহিমায় ঋজু, তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন মুখপাত্র!

সাসপেন্ড হতেই স্বমহিমায় ঋজু, তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন মুখপাত্র!

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সুর বদলালেন ঋজু দত্ত। একসময় যিনি টিভি স্টুডিওতে দলের হয়ে লড়াকু সওয়াল করতেন, সেই ঋজুই এখন ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং দলের নীচুতলার নেতা-কর্মীদের একাংশের ‘তোলাবাজি’ নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

চাকরি বিক্রি নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলের এতদিনের অবস্থানকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে ঋজু দত্ত বলেন, “চাকরি বিক্রি হয়নি—এ কথা বলার মতো পাপ কিছু হতে পারে না। চাকরি বিক্রি যে হয়েছে, তা প্রমাণিত।” এতদিন দলের মুখপাত্র হিসেবে এই ইস্যুতেই যারা আত্মপক্ষ সমর্থন করতেন, তাঁদের দিকেই সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, সত্যকে অস্বীকার করা এখন বড় অপরাধের সমান।

তোলাবাজি নিয়ে কড়া আক্রমণ

দলের অন্দরে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে, তা বোঝাতে গিয়ে রিজু অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “বাড়িতে কোমড বসাতে হলেও টাকা নেয় তৃণমূল।” সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো কাজেও যেভাবে শাসকদলের একাংশ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করে, রিজুর এই মন্তব্য সেই বাস্তব ছবিটাকেই জনসমক্ষে তুলে ধরেছে।

বাংলার জনাদেশ ও ‘নতুন স্বাধীনতা’

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং বিপুল জনাদেশ নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ঋজু। তিনি বলেন, “৯৩ শতাংশ বাংলার মানুষ ভোট দিয়েছে। কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে ভারত জিতেছে, পাকিস্তান হেরেছে।” বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘নতুন স্বাধীনতার স্বাদ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, শাসকদলের রক্তচক্ষু বা ভয় কাটিয়ে এখন সাধারণ মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাসপেন্ড হওয়ার পর ঋজু দত্তের এই ‘ইউ-টার্ন’ তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর। দলের অন্দরের খবরাখবর জানা একজন নেতা যখন প্রকাশ্যে এমন দুর্নীতির পর্দাফাঁস করেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। মূলত দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এখন কোনো রাখঢাক না রেখেই শাসকদলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন রিজু দত্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *