সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলা, আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল দাবি অভিষেকের! – এবেলা

সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলা, আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল দাবি অভিষেকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন শারীরিক হেনস্থার শিকার হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা পর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। নিজের ভাঙা চশমা ও ছেঁড়া শার্ট সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

বিজেপির বহিরাগতদের দিকেই অভিযোগের তির

হামলার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর সোনারপুরের সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দূর-দূরান্তের কোনও যোগ নেই, বরং তাঁরা তাঁকে আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আগে থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের লোক ঢুকিয়ে রেখেছিল বিজেপি এবং সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক বহিরাগতদের এনেই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। শনিবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথেই পাটুলি ও কামরাবাদ এলাকায় কালো পতাকা হাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

বাইক সফর ও ক্রিকেট হেলমেট পরে আত্মরক্ষা

রাস্তায় তীব্র বিক্ষোভের জেরে চারচাকা গাড়ি ছেড়ে একপর্যায়ে মোটরবাইকে চড়ে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিক্ষোভকারীরা তাঁর গতিপথ আটকে সরাসরি শারীরিক হেনস্থা শুরু করে। ভিড়ের মধ্য থেকে জুতো এবং ডিম ছোড়ার পাশাপাশি ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর পরনের শার্টের বোতাম ও ভেঙে ফেলা হয় চোখের চশমা। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা ‘চোর-চোর’ স্লোগানের মাঝে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নিজের মাথা বাঁচাতে তড়িঘড়ি একটি ক্রিকেট হেলমেট পরে নেন তিনি। ওই অবস্থাতেই হেঁটে সোনারপুরের নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে এগোতে বাধ্য হন এই তৃণমূল নেতা।

প্রশাসনের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সমস্ত বাধা পেরিয়ে নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে বসে ডবল ইঞ্জিন সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি জানান, কর্মসূচির কথা আগেভাগে জানানো সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশের দেখা মেলেনি এবং কার্যত তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবে এই হিংসাত্মক বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর প্রস্থানের পর নিহত কর্মীর অসহায় পরিবারের ওপর পুনরায় হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংসদ। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হামলাকারীরা বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করায় তিনি কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *