“সোনা কিনবেন না, তেল বাঁচান”: মোদীর আর্জিকে ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ বলে তোপ রাহুলের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাধারণ মানুষের প্রতি দেওয়া বিশেষ কিছু পরামর্শকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি। গত রবিবার তেলেঙ্গানায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পেট্রোল, ডিজেল ও সোনা কেনার ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে সরকারের ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করে আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
প্রধানমন্ত্রীর সংযম পালনের আহ্বান
বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী জনগণকে একগুচ্ছ পরামর্শ দেন। তিনি সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো বা গণপরিবহন ব্যবহার করতে এবং প্রয়োজনে আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা অনলাইন মিটিংয়ের সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী এক বছর সোনা কেনা স্থগিত রাখা এবং ভোজ্য তেল ও সারের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আবেদন করেন তিনি। মোদীর মতে, বিশ্বজুড়ে চলা এই অস্থির সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা দেশের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
পাল্টা আক্রমণে রাহুলের তোপ
প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, এগুলো উপদেশ নয় বরং সরকারের দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনের ব্যর্থতার দলিল। তাঁর মতে, সরকার নিজের দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জবাবদিহি থেকে বাঁচতে চাইছে। রাহুল অভিযোগ করেন, দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে যেখানে জনগণকে এখন কী কিনতে হবে বা কোথায় যেতে হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দিচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘কম্প্রোমাইজড পিএম’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন যে, দেশ চালানো এখন বর্তমান নেতৃত্বের আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে।
সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং খাড়ি অঞ্চলে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত তার চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়, ফলে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাশ্রয়ের বার্তা থাকলেও, বিরোধীরা এটিকে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফল হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাদানুবাদ আগামী দিনে জ্বালানির দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জাতীয় রাজনীতিকে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তুলবে।
