হঠাৎ মেজাজ খিটখিটে ও ঘাড়ের কাছে অস্বস্তি, অজান্তেই বাসা বাঁধছে মারাত্মক রোগ! – এবেলা

হঠাৎ মেজাজ খিটখিটে ও ঘাড়ের কাছে অস্বস্তি, অজান্তেই বাসা বাঁধছে মারাত্মক রোগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শরীরে কোনো লক্ষণ নেই, অথচ ভেতরে ভেতরে ধমনী ও হৃদ্‌যন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা উচ্চ রক্তচাপ। সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন যে, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসলে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। রক্তচাপের মাত্রা দীর্ঘ দিন ধরে বেশি থাকলে ধীরে ধীরে হার্টের মতো জরুরি অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে, যা পরবর্তী সময়ে প্রাণঘাতী জটিলতার সৃষ্টি করে।

উচ্চ রক্তচাপের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব

শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে রক্তনালিকাগুলির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে ধমনীর স্থিতিস্থাপক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে রক্তনালিগুলি আড়ষ্ট, সরু ও দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন ও নন-অ্যাড্রিনালিন হরমোনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এই হরমোনগুলোর প্রভাবে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তনালি সঙ্কুচিত হয়ে রক্তচাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতির মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।

লক্ষণ চেনার উপায় ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

মেডিসিন ও মধুমেহ বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গ সব সময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। তবে কিছু ছোট ছোট লক্ষণ দেখে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া সম্ভব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথার পিছনের দিকে ব্যথা বা ভারী ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং বুক ধড়ফড় করা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম লক্ষণ। এছাড়া ঘাড়ের কাছে আচমকা স্পন্দনের গতিবৃদ্ধি, গলার দুই পাশে ক্যারোটিড ধমনীর তীব্র প্রবাহ এবং অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। মানসিক চাপ, কম ঘুম ও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে যাওয়াও এই রোগের ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৪০ বছর পার হওয়ার পর প্রত্যেকেরই প্রতি মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের আরও আগে থেকেই নিয়মিত পরীক্ষা শুরু করা জরুরি। হঠাৎ শরীর খারাপ লাগলে, অতিরিক্ত ঘাম হলে বা বুক ধড়ফড় করলে অবহেলা না করে অবিলম্বে রক্তচাপ মেপে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *