১৫ মিনিটের অডিয়োয় ১০০ কোটির ব্লু-প্রিন্ট! ইডি দফতরে হাজিরা অভিষেকের – এবেলা

১৫ মিনিটের অডিয়োয় ১০০ কোটির ব্লু-প্রিন্ট! ইডি দফতরে হাজিরা অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সিবিআইয়ের পেশ করা তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে উল্লিখিত একটি ১৫ মিনিটের অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরেই তাঁকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর। চাকরি বিক্রি ও বিপুল অঙ্কের ঘুষ ভাগাভাগির এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তের জাল গোটাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

পনেরো মিনিটের কথোপকথন ও ১০০ কোটির ছক

তদন্তকারী সংস্থার হাতে আসা ওই অডিয়ো রেকর্ডিংটি ২০১৭ সালে বেহালায় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’-র বাড়ির একটি বৈঠকের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন যুবনেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষ। সিবিআইয়ের দাবি, সেই কথোপকথনে একাধিকবার ‘অভিষেক’ নামের এক ব্যক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। অভিযোগ, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরির বিনিময়ে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় টাকা নিচ্ছেন জানতে পেরে ওই ‘অভিষেক’ ১৫ কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা না পেলে নিয়োগ আটকে দেওয়ার এবং চাকরিপ্রার্থীদের ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোট ১০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করেন সুজয়কৃষ্ণ। স্থির হয়, সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ‘অভিষেক’, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যকে ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে এবং বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে।

তদন্তের অভিমুখ ও সম্ভাব্য প্রভাব

অডিয়োতে উল্লিখিত ব্যক্তি আর তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক একই কি না, বর্তমানে সেটাই ইডির তদন্তের মূল বিষয়। এই সূত্র ধরে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ খুঁজছেন আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি অভিষেকের সংস্থা ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর প্রাক্তন কর্মী সুজয়কৃষ্ণের সঙ্গে সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিষেকের অন্যান্য সংস্থাগুলিও তদন্তকারীদের আতসকাচের নীচে রয়েছে। এই জিজ্ঞাসাবাদের ফলে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত এক নতুন মাত্রা পেতে পারে। অডিয়োর তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক দুর্নীতির সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণিত হলে তা রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের আইনি জটিলতা ও অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *