৩৮টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের, ১ লক্ষ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পীযূষ গোয়েলের – এবেলা

৩৮টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের, ১ লক্ষ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পীযূষ গোয়েলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

৩৮ দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বিশ্ববাজারে ভারতের বিশাল রপ্তানি সম্ভাবনার দুয়ার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার নতুন দিল্লিতে ‘ভারতীয় বাণিজ্য মহোৎসব পোর্টাল’ উদ্বোধনের সময় এই রূপরেখা প্রকাশ করেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই রপ্তানির পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৬৩ আরব ডলার। বিশ্বের ৩৮টি দেশের সাথে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন হওয়ায় দেশীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বিশ্ববাজারে এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতা হ্রাস ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশের উদ্যোক্তাদের আমদানি করা পণ্যের বিকল্প হিসেবে দেশীয় স্তরে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাপিটাল গুডসের (মূলধনী পণ্য) ক্ষেত্রে ভারত এখনো বহুলাংশে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমাতে রাজকোট, জলন্ধর, লুধিয়ানা ও পুনের মতো শিল্প ক্লাস্টারগুলোকে মূলধনী পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মান নিয়ন্ত্রণ ও সম্পূর্ণ উৎপাদন

বৈশ্বিক বাজারে ভারতীয় পণ্যকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে পণ্যের গুণগত মানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, শুধু বিদেশ থেকে পার্টস এনে সংযোজন বা ‘অ্যাসেম্বলিং’ করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হলে এখন থেকে ভারতেই পণ্যের সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এক ঝলকে

  • চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে ভারতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ কোটি ডলার এবং আগামী ৫ বছরে তা ২ লক্ষ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা।
  • বিশ্বের ৩৮টি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কথা মাথায় রেখে ক্যাপিটাল গুডসের আমদানি কমিয়ে রাজকোট, জলন্ধর, লুধিয়ানার মতো শিল্পাঞ্চলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর।
  • বৈশ্বিক বাজারে ভারতের ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখতে কেবল পণ্য সংযোজন নয়, বরং সম্পূর্ণ গুণগত উৎপাদন নিশ্চিত করার বার্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *