৩৮ বছর বয়সেও সিংহাসন অক্ষুণ্ন রাখলেন রাজা বিরাট কোহলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আইপিএলের মঞ্চে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। দীর্ঘ ১৮ বছরের ট্রফি খরা কাটানোর পর, এবারও খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে সফল হলো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ফাইনালের মেগা ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে আরসিবি-কে শিরোপা এনে দেওয়ার মূল কারিগর সেই চিরপরিচিত ‘কিং’ বিরাট কোহলি। ৩৮ বছর বয়সেও চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় তাঁর ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের অনবদ্য ইনিংসটি প্রমাণ করেছে, ক্রিকেটে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নতুন করে প্রমাণ করার আর কিছু নেই।
বড় ম্যাচের চেনা নায়ক
ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে শুরুতে ভুবনেশ্বর কুমার এবং রশিখ সালামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আরসিবি-র পক্ষে ম্যাচ সহজ করে দিয়েছিল। তবে রান তাড়া করতে নেমে মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল দল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আরও একবার উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন কোহলি। টিম ডেভিডের সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করে ইনিংসের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি ২৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করার চেনা ভঙ্গিমায় দলকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়।
ধারাবাহিকতার অনন্য নজির
এই মরশুম শেষে কোহলির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ রান। আইপিএলের ইতিহাসে এই নিয়ে টানা চারবার এক মরশুমে ৬০০-র বেশি রান করার অনন্য নজির গড়লেন তিনি। অধিনায়ক পদে না থেকেও যে তিনিই দলের আসল হৃদপিণ্ড, এই পারফরম্যান্স তারই প্রতিফলন। টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক ব্যাটিং এবং ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে নার্ভ ধরে রাখার ক্ষমতাই আরসিবি-কে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান থেকে চ্যাম্পিয়নের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
সাফল্যের কারণ ও প্রভাব
আরসিবি-র এই টানা সাফল্যের প্রধান কারণ দলগত সংহতি এবং কঠিন সময়েও নিজেদের পরিকল্পনায় অবিচল থাকা। টুর্নামেন্টের মাঝে কয়েকটি ম্যাচে পরাজয়ের ধাক্কা আসলেও, একটি জয় কীভাবে দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে। কোহলির মতো একজন অভিজ্ঞ ‘চেজমাস্টার’ দলে থাকায় যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে মানসিক সুবিধা পেয়েছে আরসিবি। এই শিরোপা জয়ের ফলে আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল বেঙ্গালুরু, যা আগামী মরশুমগুলোতেও তাদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
