স্বাক্ষর কেলেঙ্কারির জেরে বিপাকে তৃণমূল, সিআইডি তদন্তের মুখে বিরোধী দলের তকমা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় বিধায়কদের দুই জায়গায় দুরকম সইয়ের অসংগতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া জালিয়াতির অভিযোগ এখন সিআইডি তদন্তের পর্যায় পৌঁছেছে। এই সই-জাল কাণ্ডে দলের কতজন বিধায়ক শেষ পর্যন্ত দোষী প্রমাণিত হন, তার ওপর এখন নির্ভর করছে বিধানসভায় তৃণমূলের বিরোধী দলের মর্যাদা টিকিয়ে রাখার ভবিষ্যৎ।
অসংগতির সূত্রপাত ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
গত ৪ মে নির্বাচনী ফলপ্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের দলীয় বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর বিধানসভার সচিবের কাছে বিরোধী দলনেতার নাম সংবলিত প্রস্তাবপত্র জমা দিতে ১৯ মে আবারও বৈঠক ডাকে দল। বিধানসভায় ৭০ জন বিধায়কের সই করা যে প্রস্তাবনাপত্রটি জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতেই প্রথম গরমিল ধরা পড়ে। বিধানসভার সচিব লক্ষ্য করেন, অনেক বিধায়কের নাম বড় অক্ষরে লেখা এবং কারও ক্ষেত্রে শুধু আদ্যক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
সন্দেহ হওয়ায় সচিব বিধায়কদের শপথগ্রহণের দিনের মূল সইয়ের সঙ্গে এই প্রস্তাবনাপত্রের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখেন। প্রাথমিক পর্যালোচনায় অন্তত ২০ জন বিধায়কের সইয়ে অমিল পাওয়া যায়। এই অসংগতির ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিব থানায় এফআইআর দায়ের করেন, যার তদন্তভার বর্তমানে সিআইডি-র হাতে। তদন্তের অংশ হিসেবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক বিধায়ককে নোটিস পাঠিয়েছে সিআইডি।
অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও দলীয় ক্ষোভ
এই সই বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কালীঘাটে বিধায়কদের জরুরি বৈঠক ডাকা হলেও ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন অর্থাৎ ২৫ শতাংশ হাজির হওয়ায় বৈঠকটি বাতিল করতে হয়। বিধায়কদের একাংশের বক্তব্য থেকেও এই ক্ষোভ স্পষ্ট। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে তিনি কোনও সই করেননি, শুধু নিজের নাম লিখেছিলেন। অন্যদিকে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামও সরাসরি সই করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
আইনি নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে ন্যূনতম ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। তৃণমূলের জমা দেওয়া প্রস্তাবনায় ৭০ জনের স্বাক্ষর রয়েছে। সিআইডি তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের পদ খারিজসহ বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কা রয়েছে। জালিয়াতি প্রমাণিত বিধায়কদের সংখ্যা বাদ দেওয়ার পর যদি সমর্থনের সংখ্যা ৩০-এর নিচে নেমে যায়, তবে সদ্যপ্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
