অধীর-গড়ে প্রবল কম্পন, বহরমপুরে হারের শঙ্কায় কংগ্রেসের ‘রবিনহুড’!

অধীর-গড়ে প্রবল কম্পন, বহরমপুরে হারের শঙ্কায় কংগ্রেসের ‘রবিনহুড’!

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী থাকছে বহরমপুর। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভেদ্য কংগ্রেসী দুর্গে এবার পতনের সুর। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, নিজের খাসতালুক বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ১২০০-রও বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। উল্টোদিকে, বড় ব্যবধানে লিড নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি শিবির।

অপ্রত্যাশিত পতন ও গেরুয়া উত্থান

বহরমপুর এবং অধীর চৌধুরীকে একসময় সমার্থক মনে করা হতো। কিন্তু এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম গণনার শুরু থেকেই চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাথমিক রাউন্ডের শেষে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির প্রার্থী সুব্রত মৈত্র সেখানে অধীর চৌধুরীর চেয়ে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ১২০০ ভোটের এই ব্যবধান রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দশকে বহরমপুর কেন্দ্রে অধীর চৌধুরীর এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার নজির কার্যত নেই বললেই চলে।

ভোটের সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে বিজেপির ক্রমবর্ধমান হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে কংগ্রেসের প্রথাগত ভোট। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের বিভাজন এবং হিন্দু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিজেপির মেরুকরণ অধীর চৌধুরীর একচ্ছত্র আধিপত্যে বড়সড় চিড় ধরিয়েছে।

যদি শেষ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড বজায় থাকে এবং সুব্রত মৈত্র জয়ী হন, তবে তা হবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘আপসেট’। এটি কেবল একটি আসনের হার নয়, বরং সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলা তথা উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। অধীর চৌধুরীর মতো হাই-প্রোফাইল নেতার পরাজয় রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বিকেল নাগাদ চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হলে বোঝা যাবে যে, বহরমপুর কি সত্যিই তার পুরোনো অভিভাবককে হারিয়ে নতুন কোনো রাজনৈতিক মোড় নিতে চলেছে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *