অবিরাম বৃষ্টিতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাড়ি, ঝাড়গ্রামে ঘুমের মধ্যেই চিরনিদ্রায় কলেজ ছাত্রী!
টানা কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর-২ ব্লকের শুকজোড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির দাপটে দুর্বল হয়ে পড়া একটি দোতলা মাটির বাড়ির দেওয়াল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে পিঙ্কি দাস নামে এক কলেজ ছাত্রীর। শুক্রবার গভীর রাতে যখন পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখনই এই বিপর্যয় ঘটে। দুর্ঘটনায় পিঙ্কির বাবা, দাদা ও ঠাকুমা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিপত্তির নেপথ্যে আবহাওয়া ও নির্মাণ কাজ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পিঙ্কি শিলদা চন্দ্রশেখর কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। পরিবারটি একটি টিনের ছাউনি দেওয়া দোতলা মাটির বাড়িতে বসবাস করত। সম্প্রতি তাঁদের পাকা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় মাটির বাড়ির পাশেই গর্ত খুঁড়ে লোহার কাঠামো বসানো হয়েছিল। একদিকে টানা বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ভিজে নরম হয়ে যাওয়া এবং অন্যদিকে ভিত তৈরির জন্য মাটি খননের ফলে পুরনো কাঠামোটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গভীর রাতে দেওয়ালটি সরাসরি ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা সদস্যদের ওপর আছড়ে পড়ে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস
ঘটনার পর রাতেই গ্রামবাসীরা উদ্ধারকাজে হাত লাগান এবং পুলিশকে খবর দেন। শনিবার সকালে বিনপুর-২ ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এদিকে শনিবার বিকেল থেকেও এলাকায় নতুন করে দুর্যোগ শুরু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
এক ঝলকে
- টানা বৃষ্টিতে মাটির বাড়ি ধসে ঝাড়গ্রামের শুকজোড়া গ্রামে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু।
- দুর্ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
- নতুন পাকা বাড়ি তৈরির জন্য মাটি খনন ও বৃষ্টির কারণে মাটির দেওয়ালটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রমাণিত হলে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
