বিকেল হতেই দুর্যোগের ভ্রুকুটি! ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সাথে মুষলধারে বৃষ্টি, বাংলা জুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি

মে মাসের শুরুতেই জোড়া ফলার প্রভাবে ভাসছে বাংলা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর অবস্থান করা একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখার জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এর প্রভাবেই রাজ্যজুড়ে প্রাক-বর্ষার এই সক্রিয়তা দেখা দিয়েছে, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
রেকর্ড বৃষ্টি ও তাপমাত্রার পতন
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের ক্যানিংয়ে ১০৮ মিমি এবং আমতায় ১০ সেমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই সময়ের নিরিখে নজিরবিহীন। কলকাতায় বুধবার রাতের বৃষ্টির পর এক ধাক্কায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কমে ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। আইআইটিএম পুণের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে কলকাতায় এমন ভারী বর্ষণের রেকর্ড অত্যন্ত বিরল। আজ বিকেল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ৭ থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা এবং সমতলের নদীগুলোর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকায় মৎস্যজীবীদের ৪ মে পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে।
- কলকাতায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
- উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ধস ও বন্যার সতর্কতা জারি।
- দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের ৪ মে পর্যন্ত সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা।
