আগুনে ‘মুখপোড়া’ নাজিরাবাদেই ৮০০ বিঘার শিল্প হাব! কর্মসংস্থানের নয়া দিশা – এবেলা

আগুনে ‘মুখপোড়া’ নাজিরাবাদেই ৮০০ বিঘার শিল্প হাব! কর্মসংস্থানের নয়া দিশা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: ভোটের আগে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরি করে সুপরিকল্পিত শিল্পায়নের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেটেই তার প্রতিফলন দেখছেন শিল্পপতিরা। কলকাতার উপকণ্ঠে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নাজিরাবাদে প্রায় ৮০০ বিঘা জমিতে এক বিশাল শিল্প-হাব গড়ে তোলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে বর্তমান সরকার।

কী থাকছে রাজ্যের এই মেগা পরিকল্পনায়?

নাজিরাবাদ এলাকায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘ক্লাস্টার’ তৈরির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে প্রশাসন। মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) পাখির চোখ করে এগোচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত এই শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠবে:

  • আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড স্টোরেজ।
  • আধুনিক মানের গুদামঘর বা লজিস্টিক হাব।
  • খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প।
  • বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কারখানা।

অতীতের কলঙ্ক মোছার চেষ্টা:

এই নাজিরাবাদ এলাকাতেই ভোটের আগে অবৈধ কারখানায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়, যাতে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। অভিযোগ ছিল, শাসকদলের একাংশের মদতে জলাজমি ভরাট করে বেআইনিভাবে কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবৈধ কারখানার তালিকা তৈরির পাশাপাশি, সরকারি জমি এবং ইচ্ছুক দাতাদের জমির সমন্বয়ে একটি বৈধ ও নিরাপদ শিল্পাঞ্চল গড়ার পথে হাঁটছে।

শিল্পের জন্য কেন আদর্শ এই নাজিরাবাদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত দিক থেকে নাজিরাবাদের অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক:

  • উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: বিমানবন্দর, বন্দর এবং ইএম বাইপাসের সঙ্গে এই এলাকার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
  • সংরক্ষণের সুবিধা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন এলাকার বিপুল পরিমাণ ফসল এবং মাছ সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য এখানকার কোল্ড চেন দারুণ কার্যকর হবে।

বিধায়কের আশ্বাস:

সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস দেবাশিস ধর জানান, “শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে আমাদের স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ওই এলাকার দখল হয়ে যাওয়া জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরানো হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই শিল্পের কাজ এগোবে।”

তবে, রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনই উচ্ছ্বাসে ভাসতে নারাজ। অতীতের বহু ভুয়ো প্রতিশ্রুতির অভিজ্ঞতায় তাঁদের একটাই দাবি— পরিকল্পনা যেন শুধু খাতায়-কলমে আটকে না থাকে, দ্রুত কারখানা গড়ে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের বাস্তব কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *