আবারও কি ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’? কেন্দ্র কি সত্যিই নির্দেশ দিল? জেনে নিন আসল সত্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (ডব্লিউএফএইচ) বা বাড়ি থেকে কাজ করার নিয়ম বাধ্যতামূলক হতে চলেছে—এমন জল্পনা গত কয়েকদিন ধরেই তুঙ্গে ছিল। তবে এই বিষয়ে যাবতীয় ধোঁয়াশা দূর করে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সংস্থাগুলোর ওপর এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করার পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই।
গুজব বনাম বাস্তবতা
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সফরকে কেন্দ্র করে এই জল্পনার সূত্রপাত হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জ্বালানি সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভব হলে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ‘আবেদন’ বা ‘পরামর্শ’কে অনেক মহলে বাধ্যতামূলক ‘নির্দেশিকা’ হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। বিশেষ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন যে আইটি সেক্টরে ফের বাড়ি থেকে কাজ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো সরকারি আদেশ নয় বরং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের একটি অনুরোধ মাত্র।
অর্থনৈতিক সতর্কতার কৌশল
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ওঠানামার ফলে ভারতের আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যাতায়াত কমিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাজ করলে বা গণপরিবহন ব্যবহার করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে—এমন একটি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এই সতর্কতার অর্থ এই নয় যে, সরকার উন্নয়নমূলক কাজ বা পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
সরকারি ব্যাখ্যার পর এটি স্পষ্ট যে, কোনো সংস্থায় কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন নাকি অফিস থেকে, তা সম্পূর্ণভাবে সেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় সরকার সড়ক, রেল এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোও চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি স্মার্ট ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার প্রতি উৎসাহ দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য, কোনো প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেওয়া নয়।
